মানবতার সেবায় তারকারা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৩৬

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সর্বত্রই এখন চলছে হোম কোয়ারেন্টাইন। এই অবস্থায় দেশের নিম্ন আয়ের মানুষজন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমাদের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এগিয়ে এসেছেন মানবতার সেবায়। তারই কয়েকটি খবর নিয়ে এবারের আয়োজন—

গোপনেই সাহায্যে করছেন শাকিব খান!

 

বাংলাদেশেও করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরবন্দি হয়ে কাটছে মানুষের দিন। অন্যান্য দেশের পাশাপাশি আমাদের সরকার প্রধান সারাদেশ লক-ডাউন করে রেখেছে। তাতে অসহায় হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষগুলি। সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও মানুষকে সচেতন করছেন ও সহযোগিতা করছেন নানা ভাবে। এই অসহায় মানুষদের গোপনেই সাহায্যে করছেন বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খান। তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হলেও এমন সত্যতা স্বীকার করেছেন তার ঘনিষ্ঠ একজন।

এ প্রসঙ্গে সুপাস্টার শাকিব খান বলেন, ‘আমার জানামতে কাউকে দান করলে এক হাতের দান অন্যজন যেন জানতে না পারে। সেখানে আমার কিছু বলার নাই। শুধু আমার ভক্তদের উদ্দেশে এতটুকু বলতে চাই—এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। আমি ঘরের বাইরে যাচ্ছি না। বাইরের সব কাজ বন্ধ রেখেছি। সবাইকে অনুরোধ করব, ঘর থেকে বের হবেন না। এখন নিজের সুরক্ষার কথা নিজেকে ভাবতে হবে তাহলেই করোনা থেকে বাঁচা যাবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। আর সবাইকে সচেতন থাকতে হবে—যেন কোনোভাবেই করোনা আমাদের না অ্যাট্যাক

করতে পারে।’

 

মানবিকতার

পরিচয়ে পপি-মিম

 

চিত্রনায়িকা পপি ও চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম দেশের এই দুর্যোগে ভীষণ মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই দুই নায়িকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে সবাই বেশ প্রশংসাও করছেন। কিছুদিন আগে নিজের গ্রামের বাড়ি খুলনাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। সেখানে গিয়ে ক’দিন থাকার পর তার রাজধানীতে ফিরে আসার কথা। কিন্তু পারলেন না আর ফিরতে। সরকার ঘোষিত নির্ধারিত ছুটির পুরোটা সময়ই তাকে খুলনাতে থাকতে হচ্ছে। অবশ্য বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই খুলনাতে আছেন বিধায় সেখানে সময়টা কাটছে তার বেশ দারুণ। করোনা ভাইরাস থেকে খুলনায় সাধারণ মানুষ যেন সাবধানে থাকেন সেজন্য পপি তার আশেপাশের এলাকার মানুষকে সবসময়ই সচেতন থাকতে বলছেন। আবার সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজার সহ আরো বেশকিছু জিনিস নিজের উদ্যোগেই বিতরণ করেছেন। এদিকে বিদ্যা সিনহা মিম ১৮ মার্চ থেকেই বাবা বীরেন্দ্র নাথ সাহা ও মা ছবি সাহাকে নিয়ে রাজধানীর বুসন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘরের মধ্যে বন্দী রেখেছেন নিজেকে। নিজের ড্রাইভার, কাজের বুয়া সবাইকে বেতন দিয়ে ছুটি দিয়েছেন। কিন্তু মিম যে বড় কাজটি করেছেন তা হলো তিনি রাজশাহীর ৫০০ পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

 

মেকআপ শিল্পীদের পাশে কুসুম

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৮ মার্চ থেকে সমস্ত নাটকের শুটিং বন্ধ রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন টেকনিশিয়ান বিশেষ করে মেকআপ শিল্পীরা। কারণ তাদের মজুরি দৈনিক ভিত্তিতে হয়। দেশের এই পরিস্থিতিতে দুঃসময় পার করা সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়ালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কুসুম শিকদার।

এ ব্যাপারে কুসুম শিকদার বলেন, ‘মেকআপ আর্টিস্টরা বর্তমানে দুঃসময় পার করছেন। আমি নিজ থেকে মেকআপ আর্টিস্টদের সংগঠনের সভাপতি বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে ১৫ জনের নাম দেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মেকআপ আর্টিস্ট শিল্পের দক্ষতা এবং মেকআপ ব্যবহার করে মডেলের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন। তাদের কাজ সাধারণত একজন ফটোগ্রাফার বা ফ্যাশন ডিজাইনার তত্ত্বাবধান করে থাকেন। চলচ্চিত্র, থিয়েটার, টেলিভিশন এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মেকআপ শিল্পীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাদের এই দুঃসময়ে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র। আমি জানি, হয়তো লজ্জা করে অনেকে জানাবেন না তাদের দুঃসময়ের কথা। তারপরও অনুরোধ করব, খাদ্য সংকটে যদি কেউ থাকেন তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আপনাদের খাবার আমি পৌঁছে দিব বাড়িতে। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ দিন শেষে ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটাবেন না।’

 

ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাহায্য করছেন মমতাজ

 

৩১ মার্চ থেকে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস বিষয়ে কঠোর সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষে নিজেরই একটি জনপ্রিয় গানের সুরে বাউল সম্রাজ্ঞী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম ‘মাইনা যায় নিয়মটা মাইনা যায়’ গান নিয়ে সবার সামনে আসেন। দেশব্যাপী এই গানটি এখন প্রতিনিয়ত প্রচার হচ্ছে। আর তাতে করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আরো অধিক সচেতন হয়ে উঠছেন বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, গ্রামের সাধারণ মানুষও। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বলা যায় প্রায় সবধরনের যান চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যে কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ, কর্মহীন, দুঃস্থ ও দিনমজুররা বেশ খারাপ সময়ের মধ্যদিয়েই দিনানিপাত করছেন। তাদের কথা ভেবেই মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কর্মহীন, দুঃস্থ, দিনমজুর  ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সাহায্য করে আসছেন। যখন থেকে করোনা ভাইরাসের প্রভাব বাংলাদেশে শুরু হয়েছে তখন থেকেই মমতাজ বেগম তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন।

 

সবার সচেতনতায় ফেরদৌস

 

বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বের বহুদেশ আজ এই করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত। প্রতিনিয়তই হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস রোগীর খবর প্রকাশিত হয় ৮ মার্চ নারী দিবসে। এরপর থেকে একের পর একে দেশে করোনা ভাইরাস রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। সবাই যার যার অবস্থানে থেকে নিজেদের সচেতন রাখার পাশাপাশি পাশের জনকেও সচেতন করার চেষ্টা করছেন। অনেক তারকাও দেশের মানুষদের সচেতন করতে নানান ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ফেরদৌসও এগিয়ে এলেন। দেশের করোনা ভাইরাসের খবরে নিজেকে ১৩ মার্চ থেকেই ঘরে আটকে রেখেছেন ফেরদৌস। মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস’র বাসায় পারিবারিকভাবেই সময় কাটাচ্ছেন। তবে প্রতি মহূর্তে তিনি দেশবাসীর জন্য ভীষণ উদ্বেগ উত্কণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। দেশের সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ করে ফেরদৌস বলেন, ‘সত্যি বলতে কি এই মুহূর্তে শুধু আমাদের দেশ নয়, সারা বিশ্ব এক বিশাল মহামারীতে আক্রান্ত। করোনা ভাইরাসের মতো শক্তিশালী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। আর সেই যুদ্ধটা করতে হবে আমাদেরকে নিজেদেরকে ঘরের মধ্যে থেকেই। আমরা কেউ কোথাও যাব না খুব ইমার্জেন্সি কোনো কিছুর দরকার না হলে। ঘরের মধ্যে থেকেই নিজের পরিবারকে নিরাপদে রাখতে হবে।’