বগুড়ায় চালের বাজার অস্থিতিশীল

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২১:২৭

বেকায়দায় ক্রেতারা

 স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বগুড়ায় সবজি পানির দামে বিক্রি হলেও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চালের এই অস্থিতিশীল বাজারে বেকায়দায় পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা বেশি দামে চাল কিনছেন। প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা।

বগুড়ার বিভিন্ন খুচরা চালের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিআর-২৮, বিআর-২৯ এবং বিআর ৪৯ চালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই ৩ প্রকার চাল দুই সপ্তাহ আগে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর এখন ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা চাল দুই সপ্তাহ আগে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা দরে। রনজিত্ চাল দুই সপ্তাহ আগে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কাটারি ভোগ চাল দুই সপ্তাহ আগে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা দরে। মিনিকেট দুই সপ্তাহ আগে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা দরে। পাইজাম চাল দুই সপ্তাহ আগে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা কেজি দরে। নাজিরশাইল চাল দুই সপ্তাহ আগে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। কাজল লতা চাল দুই সপ্তাহ আগে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা কেজি দরে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের কারণে চালের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কিন্তু পাইকারি আড়ত থেকে তাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে না।

অপরদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলারদের গুদাম থেকে তাদেরকে চাহিদামতো চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চালকল মালিকরা দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করতে এসে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই দামে তারা পাইকারি বাজার থেকে চাল কিনতে পারছে না।

বগুড়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দুদু জানান, বাজারে ধানের সংকট দেখা দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ধানের মণ ছিল ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। সেই ধান এখন ১ হাজার টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই চালের দাম বেড়েছে। বগুড়ার ডিসি ফুড সাইফুল ইসলাম জানান, চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে করোনার প্রভাব রয়েছে। তবে এই সময় ধানের সংকট থাকে। এই সংকট স্বল্পস্থায়ী। নতুন ধান উঠলেই ধানের দাম কমবে। একই সঙ্গে চালের দামও কমে যাবে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বাজার তদারকি করছি। প্রয়োজনে আরো বেশি তদারকি করা হবে।