যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সময়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসাবে উল্লেখ করিয়া সম্প্রতি বলিয়াছেন, আগামী দুই সপ্তাহ কঠিন এবং বেদনাদায়ক হইতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক এবং এই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সার্বক্ষণিক পরামর্শক ড. অ্যানথনি ফসি বলিয়াছেন, দেশে মত্যুর সংখ্যা ১ লক্ষ হইতে ২ লক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিতে পারিলে খুশিই হইব। অর্থাত্ দেশটি অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত পরিস্থিতি বিবেচনা করিতেছে। ইহার পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ এলাকা লকডাউনের সম্মুখীন হইয়াছে।
এই ভাইরাস যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে চলিতেছে তাহা তো নহে, গোটা বিশ্বই আজ একই পরিস্থিতির শিকার। একই অবস্থা হইয়াছে ইউরোপসহ উন্নত, শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রসর প্রায় সমগ্র জাতির। তাহারা রাস্তা ছাড়িয়া, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়া, বিনোদনকেন্দ্র ছাড়িয়া নিজ ঘরে গিয়া আশ্রয় লইয়াছে এবং দিনের পর দিন ঘরে কাটাইয়া দিতে হইতেছে। তবুও তাহারা সরকারের নির্দেশ অমান্য করিতেছে না। কারণ তাহারা জানে, এই ভাইরাসের হাত হইতে নিস্তার পাইবার একমাত্র উপায় নিজেকে আইসোলেটেড করা।
কোনো দেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এখনো একটু কম, কোথাওবা ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাইয়াছে। সেইখানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী তাহা ভাবিতে হইবে। ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাধিকবার সতর্ক করিয়াছে, বাংলাদেশে ১০ লক্ষ হইতে ২০ লক্ষ লোক প্রাণ হারাইতে পারে! বাংলাদেশের সরকারও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করিয়াছে এবং জনগণকে ঘরে থাকিতে অনুরোধ করিয়াছে। কোনো কোনো এলাকা লকডাউন করা হইয়াছে এবং সামনের দিনগুলিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হইবে বলিয়া আশঙ্কা করা হইতেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রীও জনগণকে সতর্ক করিয়াছেন এবং ঘরে থাকিতে অনুরোধ করিতেছেন; কিন্তু বাস্তবতা হইতেছে—এই দেশের জনসংখ্যার তুলনায় সরকারের সকল দিকে সরবরাহ অপ্রতুল। ইহাও সত্য, প্রচুর মানুষ এই মুহূর্তে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় পড়িতেছেন। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলিতে মানুষের জন্য নানা ধরনের বিমা এবং সাহায্যের ব্যবস্থা রহিয়াছে যাহা আমাদের দেশে নাই। তাই এই সময় এই ধরনের মানুষের জন্য কিছু করা যায় কি না—তাহা ভাবিয়া দেখিতে হইবে। অন্যদিকে যেই সকল এলাকা লকডাউন হইতেছে, সেই সকল এলাকায় মানুষের ঘর হইতে বাহির হইবার উপায় নাই। কেহ কেহ হয়তো অর্থসংকটেও পড়িয়া থাকিবেন। এমন অবস্থায় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের আগাইয়া যাইতে হইবে। লক্ষ রাখিতে হইবে কোনা বাড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চরম আকাল দেখা দিয়াছে কি না। সর্বোপরি প্রতিটি মানুষের নিজেকেই সাবধান থাকিতে হইবে। সবকিছু সরকার করিয়া দিবে—এই মানসিকতা ত্যাগ করিতে হইবে। নিজের ভালো নিজেকেই বুঝিতে হইবে। অস্থির হইলে চলিবে না। নিজে শুনিয়া, বুঝিয়া, মানিয়া চলাই সর্বোত্তম। তাহা না হইলে বিপদ শুধু একার আসিবে না, ইহার পাশাপাশি পরিবারের, এলাকাবাসীর এমনকি গোটা জাতির জন্যেও ডাকিয়া আনা হইবে।
