আগামী দিনের বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:০৫

মো. রাশেদ আহমেদ

আগামী দিনে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ দেশীয় অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব মহামারি নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণে আগামী দিনের পরিকল্পনা, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ, পোশাক শিল্পে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ আদায় করা।

বর্তমান নোভেল করোনা ভাইরাস এক আতঙ্কের নাম যা বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। চীনের উহান প্রদেশে এটির আবির্ভাব যা এখন ১৯০টির অধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। যার মধ্যে এখন বাংলাদেশও অন্যতম। বলতে গেলে, বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ থেকে বিচ্ছিন্ন। ইউরোপের কিছু কিছু দেশ আজ মৃত্যপুরীতে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য দেশে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। নোভেল করোনা ভাইরাসের কাছে আজ অসহায় বিশ্ব সম্প্রদায়।  এর ফলে আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অর্থনীতিবিদরা। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশেগুলোতে। বাংলাদেশের মোট আমদানির ২৬ শতাংশ এবং পোশাকশিল্পের ৪০ ধরনের কাঁচামাল আসে চীন থেকে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিভিন্ন দেশ হতে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হওয়ার দরুন এবং প্রাদুর্ভাব এড়াতে গিয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অধিকাংশ পোশাকশিল্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন—করোনার প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে বড়ো ধরনের ধস আসতে পারে। ইতিমধ্যে ইউরোপে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পোশাক রপ্তানি বন্ধ হয়েছে। ফলে নিকট-ভবিষ্যতে পোশাকশিল্প বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করে টিকিয়ে রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যা আগামীতে sustainable development goal (SDG) বা স্থায়ী টেকসই উন্নয়নে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড়ো বাধা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখের বেশি প্রবাসী দেশে ফেরায় বৈদেশিক আয়ের বড়ো ধাক্কা লাগার পাশাপাশি বৈশ্বিক শ্রমবাজারেও বড়ো আঘাত আসবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নীতিবাচক প্রভাব পড়বে সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

করোনা ভাইরাস ছাড়াও আগামীতে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। ২০১৭ সাল থেকে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী একটা বৈশ্বিক সমস্যা হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উক্ত সমস্যা সমাধানে খুব বেশি আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে না। তবে আশার আলো হচ্ছে—রোহিঙ্গাইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলা এবং অন্তর্বর্তীকালীন রায় কিছুটা আশার সঞ্চার করছে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাসংকট মোকাবিলায় ২০২০ সালে যৌথ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ুর প্রভাবে দিনদিন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ। সৃষ্টি হচ্ছে দাবানল, উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল (আমাজান), বাড়ছে বিশ্বের তাপমাত্রা। দেখা দিচ্ছে পঙ্গপালের মতো নতুন নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্ববাসী হিমশিম খাচ্ছে। বলা যায়, অনেকাংশে ব্যর্থ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাজান আর আফ্রিকার হাজার হাজার একর বন ধ্বংস হয়েছে। ২০১৯ সালে শুধু আফ্রিকা, জাপান, আর চীনে সাইক্লোনে ১ হাজার ২০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ুর সূচকে ২০২০ সালের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ নম্বরে। সর্বশেষ, ২০১৯ সালে ১৭ ডিসেম্বর মাদ্রিদে জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২৫) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন—আগামী দিনে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসবে।

ওপরে বৈশ্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, বর্তমান বিশ্ব করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধসহ কঠিন সংকট মোকাবিলা করছে। সুতরাং বাংলাদেশকে আগামীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ দেশীয় চ্যালেঞ্জ সুদৃঢ়ভাবে মোকাবিলায় এখনি যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখক ঃ শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ব্যবস্থাপনা বিভাগ