নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৮

নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ভাইরাস সংক্রমণে ইতিমধ্যে জেলায় চার জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪। করোনার প্রাদুর্ভাবের দিক দিয়ে ঢাকার পরেই নারায়ণগঞ্জের অবস্থান। এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে করোনা সংক্রমণপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এদিকে আইইডিসিআর প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছে। মানুষকে ঘরে রাখার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে প্রশাসন।

গত ৮ মার্চ যখন দেশে প্রথম তিন জন করোনার রোগী শনাক্ত হন। সেই সময়ে আক্রান্ত দুই জনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের। একে একে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন চার জন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, আরো কয়েক জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন যাদের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। গত তিন দিনেই অর্ধশতাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১২ জন। করোনায় নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকায় লকডাউন কিংবা কারফিউ জারির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী। এক ভিডিও বার্তায় লকডাউনের দাবি জানিয়েছেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানও।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন জানান, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি    খারাপের দিকে যাচ্ছে। একের পর এক করোনা পজিটিভ কেস আসছে। এ মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মানা না হলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এদিকে লকডাউনকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসনও। গত ৫ এপ্রিল রাতে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—সোমবার সকাল থেকে জিরো টলারেন্স ভূমিকায় থাকবে প্রশাসন। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে কাউকে বের হতে দেওয়া হবে না। বের হলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেল-জরিমানা প্রয়োজনে পিটুনির হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করা হয়েছে। মানুষকে বাড়িতে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ পর্যন্ত যাবে বলে প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে অভিযান আরো জোরদার করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় জেলা প্রশাসন মানুষকে ঘরে রাখার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারী কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে জেলা প্রশাসন হার্ডলাইনে থাকার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে এর কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে লকডাউনের পরও জনসাধারণকে নির্দেশনা না মেনে রাস্তায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। ফলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই রয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ। লকডাউনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলায় নতুন করে ১২ জন করোনা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে দুই জন। তাই নারায়ণগঞ্জের সচেতন মানুষ লকডাউনের ঘোষণা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।