নির্দেশনা উপেক্ষা করে পোশাকশিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৯

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে কোনো ধরনের শিল্প কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই না করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) শিল্প মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বেশকিছু গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছাঁটাইয়ের এসব নোটিশ কারখানায় টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছুটি থাকায় অনেক শ্রমিক তা এখনো জানতে পারেননি। আবার অনেক কারখানা লে অফ (সাময়িক বন্ধ) ঘোষণা করেছে, যাতে শ্রমিকদের কম পাওনা পরিশোধ করতে হয়। কিছু কারখানা শ্রমিকদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার (রিজাইন) জন্যও চাপ দিচ্ছে।

জানা গেছে, ডিআইএফই ছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনও এই সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই না করতে কারখানা মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু থামছে না ছাঁটাই। বিশেষত কারখানায় এক বছরের কম সময় চাকরি করা শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ের শিকার হচ্ছেন বেশি। করোনার এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এবং সরকারি ছুটির মধ্যেও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের এ সিদ্ধান্তকে অমানবিক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন শ্রমিক নেতারা। শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, শ্রমিকদের ঠকানোর জন্য করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা সরকার ও বিদেশি ক্রেতাদের জানাব। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, ২৪টি কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো বেশকিছু কারখানার তালিকাও দিয়েছে।    গত পাঁচ দিন আগে ডিআইএফই গার্মেন্টসসহ সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানে করোনা ভাইরাসের এই সময়ে সরকারি সাধারণ ছুটির মধ্যে কোন শ্রমিককে ছাঁটাই না করার নির্দেশনা দেয়। ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় ইত্তেফাককে বলেন, কিছু কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর আমাদের কাছে আসার পরই এ নির্দেশনা জারি করেছি। এরপরও কোনো কারখানা ছাঁটাই করলে সে প্রতিষ্ঠানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সমাধান করব।