মেলবোর্ন টেস্টের প্রথম দিন শেষেই সেঞ্চুরিয়ান চেতেশ্বর পুজারা বলেছিলেন, এখানে রান করা খুবই কষ্টের কাজ। সেই সাথে এই উইকেট নিয়ে রহস্য তো আছেই। রহস্যটা নিজেদের হাতেই নিয়ে নিলেন পেসাররা। গতকাল ম্যাচের দ্বিতীয় দিন এসে ১৫ উইকেট হারিয়েছে দুই দল। বোলারদের এই তাণ্ডবের দিনে শেষ বেলায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও এখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে।
প্রথম ইনিংসে ভারত ৪৪৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। জবাবে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৫১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৫৪ রান তুলতে হারিয়ে ফেলেছে ৫ উইকেট। তারপরও ভারতের লিড আছে ৩৪৬ রানের।
বিনা উইকেটে ৮ রান নিয়ে দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ২৪ রানের মাথায় তারা প্রথম উইকেট হারায়। ৮ রান করা ফিঞ্চকে ফেরান ইশান্ত শর্মা। এরপরই প্রথম আঘাত করেন অস্ট্রেলিয়াকে ধসিয়ে দেওয়া জসপ্রিত বুমরাহ। তিনি ফেরান ২২ রান করা আরেক ওপেনার হ্যারিসকে। এরপর উসমান খাজা ও শন মার্শ একটা ছোট জুটি করার চেষ্টা করেছিলেন। খাজাকে ফেরান জাদেজা। আর মার্শকে ফেরান বুমরাহ। ট্রাভিস হিড একটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক টিম পেইনকে নিয়ে। দু’ জনকেই আউট করেন বুমরাহ। এরপর বুমরাহ তুলে নেন নায়থান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউডের উইকেটও। সবমিলিয়ে ৩৩ রানে বুমরাহ নেন ৬ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ২৮ রান তুলেছিল ভারত। ওই ২৮ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। ফিরে আসেন হনুমা বিহারি, পুজারা ও বিরাট কোহলি। এর মধ্যে পুজারা ও কোহলির শূন্য রানে ফেরাটা ছিল ভারতের জন্য বিরাট একটা ধাক্কা। ভারতকে কাঁপিয়ে দেওয়া এই বোলিংটা করেন প্যাট কামিন্স। এরপর কামিন্স আজিঙ্কা রাহানের উইকেটও নেন। ৩২ রানে ভারতের আউট হওয়া ৪ ব্যাটসম্যানকেই ফেরান কামিন্স। এরপর দিনের একেবারে শেষ দিকে এসে রোহিত শর্মাকে ফেরান হ্যাজেলউড। ফলে ৪৪ রানে হারিয়ে ফেলে তারা ৫ উইকেট।
দিনশেষে ২৮ রান করে উইকেটে আছেন মানায়ক আগারওয়াল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত-১ম ইনিংস: ১৬৯.৪ ওভারে ৪৪৩/৭ ডিক্লেয়ার
এবং ২য় ইনিংস: ২৭ ওভারে ৫৪/৫ (আগারওয়াল ব্যাটিং ২৮; কামিন্স ৪/১০)। অস্ট্রেলিয়া-১ম ইনিংস: ৬৬.৫ ওভারে ১৫১/১০ (হ্যারিস ২২, পেইন ২২, খাজা ২১, হিড ২০; বুমরাহ ৬/৩৩, জাদেজা ২/৪৫)।
