বিশ্বব্যাপী করোনার মরণ কামড়ে আমাদের সম্ভাবনাময় ফুলচাষ, চাষি ও বিপণন কেমন আছে? জানা যায়, কৃষক শের আলী সরকারের হাত ধরে ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদাখালী থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশের প্রায় ২০ জেলায় ফুলের চাষ হয়ে থাকে। যার বর্তমান বাজার ১২০০ কোটি টাকা। ফুল ব্যবসায়ীদের হিসাবমতে এই ব্যবসার সঙ্গে ফুলচাষি, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা জড়িত প্রায় ২০ লাখ মানুষ। বিভিন্ন জেলায় ১৫ হাজারের মতো ফুল ব্যবসায়ী আর ঢাকাতে আছেন প্রায় ৫০০ ফুল বিক্রেতা। ১৯৯০-এর আগেও দেশে কাঁচা ফুল ছিল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। আমাদের কৃষকদের নিজস্ব পরিশ্রমে উত্পাদনের জোয়ার এই খাতকে তৈরি করে দিয়েছে ১২০০ কোটি টাকার স্থানীয় বাজার। শুধু তাই নয়—পহেলা ফাগুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে টার্গেট করা হয় ২০০ কোটি টাকা।
আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে আমাদের চাহিদার ৭০ শতাংশ জোগান দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ফুলচাষ বিপব ঘটিয়াছে। ১৯৮২-৮৩ সাল থেকে অর্থকরি ফসল হিসাবে এই খাত বিবেচিত। বিশ্ববাজারে ১৬ হাজার কোটি ডলারের বিশাল ফুলের বাজারের মাত্র ৫০০ কোটি টাকা রপ্তানি বাজার দখল করা এখন শুধু সিদ্ধান্ত, উদ্যোগ আর সময়ের ব্যপার। এই খাতকে ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে ও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিতে করোনা ভাইরাস চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এলাকাভিত্তিক মান সম্পন্ন বিশেষায়িত হিমাগার, ওয়্যার হাউজ নির্মাণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভ্যান,প্যাকেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, উন্নত বীজ-সার, আপত্কালীন সময়ে উত্পাদিত পণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের প্রশিক্ষণসহ এই খাতকে ‘কাঁচা ফুলশিল্প’ ঘোষণার পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাহলে শিল্পটি সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
মো. মজিবুর রহমান
৩৪ নাজিম উদ্দিন রোড ঢাকা ১১০০
