ইত্তেফাক ডেস্ক
করোনা ভাইরাস নিয়ে নানা নেতিবাচক বার্তা এলেও এই প্রথম মন ভালো হওয়ার মতো কোনো খবর এলো। যে চীন থেকে এই ভাইরাসটির উত্পত্তি সেখানে প্রথমবারের মতো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে কোভিড-১৯ এ কারো মৃত্যু কিংবা নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের (এনএইচসি) বরাত দিয়ে গতকাল এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিএনএন ও রয়টার্স।
জানুয়ারির শেষের দিকে এনএইচসি দৈনিক হালনাগাদ তথ্য দেওয়া শুরু করার পর থেকে এই প্রথম চীনে এ ধরনের একটি খবর এলো। তবে দেশে থাকা নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হলেও বিদেশ থেকে আসা ৩২ জন এদিন আক্রান্ত হয়েছে। এটি আগের দিনের চেয়ে ৭ জন কম ছিল। ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ঐ দিন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ৭৪০ জন ও মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩১ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছে ৭৭ হাজার ১৬৭ জন। তাদের সবাইকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৬৯৭ জন, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৫ জন এবং সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ৩৯৩ জন। এ কারণে চীনের অধিকাংশ এলাকারই মানুষের জীবনযাত্রা এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। হুবেই প্রদেশের উহান থেকেই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসটি প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। এরপর উহানসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। প্রায় তিন মাস এই অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর সম্প্রতি প্রাদুর্ভাবের হুমকি কমে আসায় হুবেইসহ কয়েকটি অঞ্চল থেকে লকডাউন তুলে নিয়ে বিধিনিষেধ শিথিল করা শুরু করা হয়।
আজ থেকে উহানের ওপর থেকে পুরোপুরি লকডাউন তুলে নেওয়া হতে পারে বলে সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে। এদিন মোবাইল ফোনে সবুজ কিউআর কোডধারী বাসিন্দারা উহান ও হুবেই থেকে অন্য যে কোনো জায়গায় যাওয়ার অনুমতি পাবেন। প্রাদেশিক সরকারের বিতরণ করা এই কোড বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সঙ্কেত বহন করে। তবে যে একদিন নতুন করে কেউ আক্রান্ত কিংবা মারা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে তার সত্যতা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, চীন বিশ্বের কাছে এ মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছে।
