ফাঁসির রায় কার্যকরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে :আইনমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৬

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার ষড়যন্ত্র ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর বিচারিক আদালত এবং আপিল আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তিনি বলেন, সেই রায় অনুযায়ী মাজেদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের গুলশানের আবাসিক অফিস থেকে এক ভিডিও বার্তায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি ল্যান্সার মহিউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনার পর তিনি জেল আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন, খুনি মাজেদ কি এ ধরনের সুযোগ পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী ইত্তেফাককে বলেন, ২০০৭ সালে ল্যান্সার মহিউদ্দিনকে যখন ফিরিয়ে আনা হয় তখন মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ঐ সময় আপিল বিভাগে এই মামলার কয়েক জন আসামির আপিল বিচারাধীন ছিল। আর এখন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাজেদকে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এক জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এ ধরনের আসামিকে কারাগারের সলিটারি কনফাইনমেন্টে রাখা হয়। মাজেদকেও সলিটারি কনফাইনমেন্টে রাখা হবে। ফলে উনি কারাগারে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করবেন না।

এদিকে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, মাজেদ এক জন খুনি। সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। পলাতকের জন্য আইন নয়। সে যদি প্রাণভিক্ষা চায় চাইতে পারে। তবে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার ক্ষেত্রে এমন কোনো গ্রাউন্ডও তার নেই। সে ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধ সংঘটন করেছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। এখন ফাঁসি কার্যকরের জন্য আইনসংগতভাবে যা করার সেটাই সরকার করবে।

সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার চাইলে মাজেদের ফাঁসি এখন কার্যকর করতে পারবে। উনি আপিলের সুযোগ পাবেন না। কারণ বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হয়ে গেছে। সেখানে নিশ্চয় আসামি পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন। হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের পর আপিল বিভাগও তা বহাল রেখেছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে সরকার।

তবে ভিন্নমত পোষণ করে ঢাকা ল রিপোর্ট (ডিএলআর) এর সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, মাজেদ আপিলের সুযোগ পাবেন। এটা তার আইনগত অধিকার। কারণ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বলা হয়েছে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামির ফাঁসি কার্যকর করা যাবে না। তবে আপিল করার ক্ষেত্রে আসামিকে যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করতে হবে।