১০ টাকার চাল কিনতে তুমুল ধাক্কাধাক্কি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৬

রীতিমতো কয়েক হাজার মানুষের জটলা, ধাক্কাধাক্কি। এক সময় তা রূপ নেয় এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির। কার আগে কে চাল নেবে তার প্রতিযোগিতা। চিত্রটি রাজধানীর মিরপুরের চলন্তিকা বস্তির। তবে শুধু এই বস্তিই নয়, মহাখালীর সাততলা বস্তি, কড়াইল বস্তিসহ যে ২৪টি বস্তিতে গতকাল মঙ্গলবার ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হয়, তার সবগুলোতেই প্রায় একই চিত্র।

অথচ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এক এক জন করে চাল নেওয়ার কথা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে ঘোষিত ছুটির সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া রাজধানীর দুস্থ, অসহায় ও খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকা কেজি দরে          খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রির এই কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। সপ্তাহের রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার এই তিন দিন চাল বিক্রি করা হচ্ছে। একেক দিন ২৪টি বস্তি করে রাজধানীর মোট ৭২টি বস্তির ৩৯ হাজার ১৮০টি পরিবারের মাঝে এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি বস্তিতে গড়ে ৬০০টি পরিবারের মাঝে এই চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে ৫ কেজি করে চাল। কিন্তু গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাল নিতে একই পরিবার থেকে তিন/চার জন করে এসেছেন। ফলে কয়েক হাজার লোক জড়ো হচ্ছে। তারা কেউই সরকার নির্ধারিত সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানছেনই না। ফলে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এখান থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে চীফ কন্ট্রোলার অব ঢাকা রেশনিং উত্পল সাহা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে কোনো স্বাস্থ্যবিধিই এরা মানছে না। কার আগে কে চাল নেবে তাই নিয়ে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, এদের কারণে আমরা যারা কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত তারাই ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছি।