করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় নারায়ণগঞ্জ জেলা গ্রাস করেছে। এ কারণে গতকাল জেলা ‘লকডাউন’ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সর্ম্পূণরূপে অবরুদ্ধ (Lockdown) ঘোষণা করা হলো। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন—চিকিত্সা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ (Supply Chain) ইত্যাদি এর আওতাবহির্ভূত থাকবে। অসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক জন মারা যান। ২ এপ্রিল আরো এক জন মারা যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেন যে জেলায় লকডাউন অথবা কারফিউ জারি করা হোক। ৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনের যৌথ সভায় নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ৬ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়। এর পরদিন মঙ্গলবার আরো তিন জনের মৃত্যু হয় এবং জেলায় ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হয়।
করোনায় নারায়ণগঞ্জে
এক দিনে তিন জনের মৃত্যু
মঙ্গলবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেও এর ১৫ জনই নারায়ণগঞ্জের। এছাড়া একই সময়ে নারায়ণগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ জনে। এদিকে করোনায় আক্রান্ত বলে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ রয়েছে। সিভিল সার্জন জানান, করোনা রোগীর সেবা দিয়ে জরুরি বিভাগের ডাক্তার, নার্স ও সেবাদানকারীরা সকলেই কোয়ারেন্টাইনে। ভিক্টোরীয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগ করোনা আক্রান্ত তাই বন্ধ রাখা হয়েছে। অচিরেই আমরা জরুরি বিভাগ চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আমরা বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে উন্নতির দিকে যেতে পারব। তাই সকলেরই উচিত বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
