কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবীণের সাথে নবীনের লড়াইয়ে কে জিতবে তাই নিয়ে চলছে সাধারণ ভোটারদের চুলচেড়া বিশ্লেষণ। এ আসনের ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও দলের নীতিনির্ধারক ফোরামের হেভিওয়েট সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অপরদিকে, মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশকারী কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ উইমেনস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির মো. আমির হোসেন ভুঁইয়া।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ কখনও জয় লাভ করতে পারেনি। ২০০৪ সালের আগে এ অঞ্চলের ভোটারগণ ছিল দাউদকান্দির অংশ। সেক্ষেত্রে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছিল দলের নেতাকর্মীদের অভিভাবক। ২০০৪ সালে তিতাস উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর সীমানা পুনঃনির্ধারণের আওতায় তিতাসকে হোমনার সাথে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত হয় কুমিল্লা-২ আসন। ফলে এ অঞ্চলের অভিভাবক হন মরহুম এমকে আনোয়ার। এমকে আনোয়ার মারা যাওয়ার পর এ আসনের হাল ধরেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এমকে আনোয়ার ও খন্দকার মোশাররফের সাথে বিপরীত কোন প্রার্থীই অদ্যাবধি নির্বাচনী মাঠে দাঁড়াতে পারেনি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এমকে আনোয়ারের সাথে ভোটের ব্যবধান কমিয়ে আনেন আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল নেতাকর্মীদের পিছু ছাড়েনি। এর মধ্যে এবারের নবীন প্রার্থী মেরী অনেকটা দৃশ্যমান কোন্দল গুছিয়ে আনলেও এর প্রকৃত ফলাফল কি দাঁড়ায় তাই দেখার বিষয়।
বিএনপি ঘোষিত এলাকায় ইতোমধ্যে ৮টি মামলার আসামি হয়েছে প্রায় হাজারখানেক বিএনপির নেতাকর্মী। সর্বশেষ মামলায় আসামি করা হয় মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের। গ্রেফতার এড়াতে শেষ পর্যন্ত শিথিল করা হয় নির্বাচনী কর্মসূচি। এসব মামলার ভার মাথায় নিয়ে নিজেরা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
তবে সাধারণ ভোটারদের দাবি, সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগ হলে মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। সেক্ষেত্রে, অনুন্নত রাস্তা-ঘাট, দলীয় কোন্দল, বিগত সময়ে নেতাকর্মী দ্বারা সাধারণ মানুষের নিপীড়ন, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, উপজেলা প্রতিষ্ঠার মতো ইস্যু কাজে লাগবে বলে এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী জানান, কোন অপশক্তি এবার নৌকার বিজয় থামাতে পারবে না। ভোট কেন্দ্র পাহারার নামে কোন অরাজকতা সৃষ্টি করলে জনগণই তার জবাব দেবে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকার বলেন, কুমিল্লা-২ আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীরা শান্তিপ্রিয়। মিথ্যা মামলাগুলোই তার প্রমাণ। তবে ভোটের দিন যদি কোন দল বা গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে তাহলে তার দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫ শ ৮০ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪ শ ৪৭ জন। যার মধ্যে তিতাসে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২শ ৫৩ জন ও হোমনায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৭ শ ২১ জন ভোটার রয়েছে। ওই আসনে ১টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে রয়েছে ৯৮টি ভোট কেন্দ্র; যার মধ্যে ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫শ ৭৪টি।
