ইন্টারনেট সচল রাখতে অনুদান চায় সেবাদাতারা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৫৯

করোনা ভাইরাস সঙ্কটে বিরূপ পরিস্থিতিতেও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা চালিয়ে যেতে সরকারের কাছে অনুদান চেয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি)। এ জন্য তারা ৬১০ কোটি টাকার দাবি করে করে। দেশে ইন্টারনেট সেবাদানকারী কোম্পানিগুলোর এই সংগঠন বলছে, ‘জরুরি সেবা খাত’ হিসেবে আইএসপিগুলো সচল রাখতে আগামী ছয় মাসের বেতন ও অফিস ভাড়াবাবদ তাদের এ অর্থ প্রয়োজন। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকির পাশাপাশি এ খাতের প্রায় দুই লাখ মাঠকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে আইএসপিএবির ভাষ্য।

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল হাকিম জানান, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে ৬১০ কোটি টাকা অনুদানসহ ৯টি দাবি সংবলিত একটি চিঠি তারা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বরাবরে পাঠিয়েছেন।

ঐ চিঠিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা সেবা সচল রাখতে মাঠপর্যায়ে ফাইবার টিম ও নেটওয়ার্ক টিম কাজ করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী অন্তত দুই বছর সব ইন্টারনেট সেবাদানকারী কোম্পানির আয়কর প্রত্যাহার এবং ইন্টারনেট সেবার সকল পর্যায়ে (আইটিসি, সাবমেরিন, আইআইজি, আইএসপি) ভ্যাট প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসেবে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সংখ্যা ছিল ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার। আর করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের মধ্যে সবাই বাসায় থাকায় বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ব্যান্ডউইডথ চাহিদা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে আইএসপি জানিয়েছে।

আইএসপিএবির চিঠিতে অন্য যেসব দাবি করা হয়েছে

n বর্তমান পরিস্থিতিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (নগদ/বিকাশ/রকেট) মাধ্যমে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সার্ভিস/ট্রানজেকশন চার্জ মওকুফ করা।

n আইএসপিএবি স্বীকৃত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহজ শর্তে ২ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন স্বল্প/দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দেওয়া, যার গ্রেস পিরিয়ড হবে এক বছর।

n গ্রাহক পর্যায়ে সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ফাইবার ক্যাবল ও নেটওয়ার্ক পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক দুই বছরের জন্য প্রত্যাহার।

n ইন্টারনেটের ঝুলন্ত তার অপসারণ কার্যক্রম আগামী দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখতে হবে।