ফুল

অনিন্দ্যসুন্দর হাইড্রেনজিয়া

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:২১

রূপ-লাবণ্যে অতুলনীয়। পরিবার Hydrangeaceae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Hydrangea macrophylla। আদি নিবাস আমেরিকা। বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের ঘন সবুজ বনভূমিতে বাহারি রঙের থোকা-থোকা হাইড্রেনজিয়া ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে ইদানীং বাসা-বাড়ির বাগান, পার্ক, উদ্যান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে স্থান করে নিয়েছে। বাহারি রং-রূপ লাবণ্যে তারকা খচিত হাইড্রেনজিয়া ফুল সবাইকেই কাছে টানে। ফুটন্ত অবস্থায় খুবই মনোমুগ্ধকর।

ঋতুরাজ বসন্তের শেষদিকে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা নিয়ে হাইড্রেনজিয়া ফুটতে শুরু করে এবং এই ফুল ফোটে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে। পাতা বেশ পুরু, ডিম্বাকৃতির ও যৌগিক। রং গাঢ় সবুজ, কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা, মধ্য শিরা স্পষ্ট। গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় ৩ ফুট। গাছ  ঝোপালো, শাখা-প্রশাখা ছড়ানো। কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা মাঝারি শক্ত মানের। গাছের প্রতি শাখায় ফুল ফোটে। এর বৈশিষ্ট্য ফুল ফোটার পর থেকে ঝরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ফুলের পাপড়ি বেশ অনেকবার রং পরিবর্তন করে। তাই তো ফুল ফোটার পর থেকে একই ফুলের হরেক রকমের রং দেখতে পাওয়া যায়। হাইড্রেনজিয়ার এই রকম বৈশিষ্ট্য কম ফুলেই মেলে। রং প্রধানত গোলাপি থেকে সাদা গোলাপি। তাছাড়া সাদা, নীল, বেগুনি, হালকা সবুজ, ঘিয়ে এবং মিশ্র রঙের হয়ে থাকে। ফুল গন্ধহীন। ফুলে ক্ষুদ্রাকৃতির পাপড়ি সংখ্যায় চার বা ততোধিক, মসৃণ, পুরু। ফুলের মুঞ্জরি গুচ্ছবদ্ধ, বেশ বড়ো ও আয়তাকার। অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতির পাপড়ির সমন্বয়ে সৃষ্ট থোকাকৃতির হাইড্রেনজিয়া ফুটন্ত অবস্থায় বেশ অনেকদিন তার সৌন্দর্য ধরে রাখতে সক্ষম।

রৌদ্রোজ্জ্বল থেকে হালকা ছায়া, উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি এবং দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ ও লবণাক্ত দো-আঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। সরাসরি মাটি ও টবে রোপণ উপযোগী ফুলগাছ। হাইড্রেনজিয়া কম পরিচর্যা ও যত্নে টিকে থাকতে পারে এবং এর রোগ-বালাইও কম। ডাল কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়।