দেশের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা খাল-জলাশয়সমূহকে পুনঃখনন করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং সেচ ও কৃষিকাজে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে সারাদেশে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে এ কার্যক্রম। গত বুধবার শিবগঞ্জ উপজেলায় বাগড়ইল খাল পুনঃখননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’র রূপকল্পে ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প (১ম পর্যায়)’র আওতায় প্রতিটি জেলায় বুধবার একযোগে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আওতায় জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাগড়ইল খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ উপজেলায় ৫টি খাল পুনঃখনন করা হবে। এর মধ্যে জেলা সদরে ঘুঘুডিমা এলাকায় পাগলা দাঁড়া খাল, শিবগঞ্জ উপজেলায় বাগড়ইল খাল, গোমস্তাপুর উপজেলায় রহনপুর খাড়ী বা খাল, নাচোল উপজেলায় গোলাবাড়ী খাল ও ভোলাহাট উপজেলায় চামুশা খাল রয়েছে।
বাগড়ইল খালটি পুটিমারী বিল হতে উত্পন্ন হয়ে মহানন্দা নদীতে পতিত হয়েছে। খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। খাল পুনঃখনন কাজের চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ দশমিক ৩৪ লক্ষ টাকা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাশরুবা ফেরদৌস, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ কাওসার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে রাজশাহী পওর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আমিরুল হক ভুঁইয়া, নবাবগঞ্জ পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন যাবত্ খাল পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে খালের তলদেশে পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এতে পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে সেচের পানি পাওয়া যায় না। এতে ফসলের উত্পাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন শেষে বন্যা প্রতিরোধ, পানি নিষ্কাশন, সীমিত সেচ প্রদানের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সেচ সুবিধা পাবে কৃষক, বৃদ্ধি পাবে ফসল উত্পাদন।
