উত্পাদনে থাকা পণ্যের ক্রয়াদেশ বাতিল ইস্যু
রিয়াদ হোসেন
উত্পাদনে থাকা পণ্যের ক্রয়াদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ এশিয়ার গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক দেশের সংগঠনগুলো একজোট হয়েছে। ইউরোপ আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডদের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এশিয়ার ৯টি সংগঠন একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে জাহাজীকরণ ও উত্পাদনের অপেক্ষায় থাকা পণ্য নেওয়া, এসব পণ্যের দর কমাতে বা ডিসকাউন্ট দিতে রপ্তানিকারককে চাপ না দেওয়াসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, সরবরাহ চেইনে দায়িত্বশীল আচরণ না করলে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন হবে। ফলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ ছাড়াও এতে স্বাক্ষর করে বিশ্বের সর্ববৃহত্ রপ্তানিকারক দেশ চীনের চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড এপারেল কাউন্সিল (সিএনটিএসি), গার্মেন্ট ম্যনুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ইন কম্বোডিয়া, মিয়ানমার গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, পাকিস্তান হোসিয়ারি ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, পাকিস্তান টেক্সটাইল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, টাওয়েল ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তান এবং ভিয়েতনাম টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
বিবৃতিতে ৯টি বিষয় নিশ্চিত করতে ক্রেতা ও ব্র্যান্ডদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে রপ্তানি আদেশের সময়কালে ক্রয় নীতমালা মানার অনুরোধ জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যপী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় নতুন করে রপ্তানি আদেশ দিচ্ছে না বায়াররা। শুধু তাই নয়, এই সুযোগে উত্পাদনের প্রক্রিয়ায় থাকা এমনকি জাহাজীকরণের অপেক্ষায় থাকা ক্রয়াদেশও বাতিল করেছে বহু ক্রেতা। কেবল বাংলাদেশেরই এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে তিন বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা) পণ্য। এ পরিস্থিতিতে তারল্য সংকটে পড়ে স্বাভাবিক ব্যয় মেটানো কঠিন হচ্ছে অনেকের জন্য। এমনকি আগামী মাসগুলোতে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
