ওরা ৪০ জন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

করোনা ভাইরাসের কারণে স্তব্ধ এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ১৯ মার্চ দেশে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বিসিবি। এর কয়েকদিন পরই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অবস্থিত বিসিবি কার্যালয়ও কার্যত বন্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থাটি।

তারপর থেকেই শেরেবাংলার প্রাঙ্গণ সুনশান-নীরবতায় আচ্ছন্ন। ক্রিকেটার, কোচ, বিসিবি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক মিলে বছরের বেশিরভাগ সময়ই কোলাহলমুখর থাকে মিরপুর স্টেডিয়াম। সেখানে এখন বিরাজ করছে শ্মশান নীরবতা। করোনায় বন্ধ হওয়ার আগেও ক্রিকেটাররা আসতেন বিসিবি একাডেমিতে জিম করতে। মাঠে রানিং, ইনডোরে ব্যাটিংও করতেন অনেকে। এখন আর কারো পদচারণা নেই এখানে।

করোনা কালে দেশের এত বড়ো ক্রিকেট স্থাপনা অবশ্য জনমানবশূন্য নয়। থাকার কথাও নয়। শেরেবাংলার দেখভাল করছে এখন জনা চল্লিশেক মানুষ। গতকাল বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন স্টেডিয়ামে। সঙ্গে ১৫ জন গ্রাউন্ডসম্যান। তারাই এখন স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।

চাকরির কারণে এরা রয়েছেন স্টেডিয়ামে। গ্রাউন্ডসম্যানরা অবশ্য প্রতিদিনই মাঠে কাজ করছেন। সকালে মাঠে পানি দিচ্ছেন। মাঠের ঘাস বাঁচাতে পানি দেওয়াই এখন তাদের মূল কাজ। এই স্টেডিয়ামের কিউরেটর শ্রীলঙ্কান গামিনি ডি সিলভা কলম্বো যেতে পারেননি। তিনিও ঢাকায় রয়েছেন।

গতকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাউন্ডসম্যান বলেছেন, ‘আমরা ১৫ জন আছি। খাওয়া-দাওয়া মানে মেস চলে না তো, যার যার ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে বাজার করে নিজেরাই রান্না করি। এখন তেমন কাজ করি না। সকালে মাঠে একটু পানি দেই। তারপর আর কাজ নাই। মাঠে পানি না দিলে তো ঘাস মরে যাবে।’

এক নিরাপত্তা কর্মী জানালেন, খাওয়া-দাওয়াই এখন সবচেয়ে কষ্টের বিষয় তাদের জন্য। তিনি বলেন, ‘এটাই বেশি কষ্ট। একাডেমিতে কয়েকজন মিলে রান্না করছি।’   

বিসিবির গ্রাউন্ডস বিভাগের ম্যানেজার আব্দুল বাতেন গতকাল জানিয়েছেন, সিলেট ও চট্টগ্রামে ৫-৬ জন করে গ্রাউন্ডসম্যান কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে দুই ভারতীয় কিউরেটরও রয়েছেন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতীয় কিউরেটর সঞ্জীব আগারওয়াল ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রাভীন হিনগানিকর আছেন। মাঠের পরিচর্যায় তাদের থাকতেই হচ্ছে। তাদের নির্দেশনায় কাজ করছে দুই ভেন্যুর কিউরেটররা।

করোনার এই কঠিন সময়ে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিসিবি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে গ্রাউন্ডসম্যানদের প্রতিও। স্থায়ী-অস্থায়ী গ্রাউন্ডসম্যানদের এককালীন অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবির অধীনে মোট ২০০ জনের মতো গ্রাউন্ডসম্যান রয়েছেন। স্থায়ী ৯০ জন ১২ হাজার ৪০০ টাকা এবং অস্থায়ী ১১০ জন ১১ হাজার টাকা মাসিক বেতন পান।

করোনায় এদের অনেকেই ছুটি পেয়ে পরিবারের কাছে চলে গেছেন। তবে গ্রাউন্ডসম্যান-নিরাপত্তা কর্মী মিলে এই ৪০ জন স্টেডিয়ামেই রয়ে গেছেন।