স্পোর্টস ডেস্ক
অনেক জল ঘোলার পর প্যারাগুয়ের জেল থেকে ছাড়া পেলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো। সঙ্গে ছিলেন তার ভাই রবার্তো অ্যাসিস। যদিও জাল পাসপোর্ট নিয়ে বেআইনিভাবে প্যারাগুয়েতে প্রবেশ করায় তাদের মুচলেকা হিসেবে দিতে হয়েছে ১৬ লাখ ডলার। এর অর্থ হলো প্রত্যেক জনের ক্ষেত্রে মুচলেকা হিসেবে ৮ লাখ ডলার নেওয়া হয়েছে।
প্যারাগুয়ের জেলে রোনালদিনহো ছিলেন ৩২ দিন। সাবেক বার্সা তারকার শর্তসাপেক্ষে কারামুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারপতি গুস্তাভো অ্যামারিয়া। তবে বিশাল অঙ্কের মুচলেকা দিলেও এখনই মুক্তি মিলছে না তাদের। বিচারকার্য শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দুজনকেই আপাতত একটি হোটেলে গৃহবন্দি থাকতে হবে।
এক ভিডিও বার্তায় জামিনের কথা জানিয়ে বিচারক গুস্তাভো আমারিয়া রোনালদিনহো ও তার ভাইয়ের আসুনসিওনের চার তারকা হোটেল পালমারোগায় যাওয়ার অনুমতি দেন। সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন অতিথিরা। প্যারাগুয়েতে প্রবেশের সময় জাল পাসপোর্ট ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করায় গ্রেফতার করা হয় রোনালদিনহোকে। সেটা গেল মার্চ মাসের প্রথমদিককার ঘটনা। তিনি যে হোটেলে উঠেছিলেন, সেখানে মন্ত্রণালয় দেশটির পুলিশ বিভাগের সহায়তায় তার প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটে তল্লাশি চালিয়েছিল। তল্লাাশিতে তিনি ও তার ভাইয়ের পাসপোর্টে নাম ঠিক থাকলেও জাতীয়তায় তাকে প্যারাগুয়ের নাগরিক হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
প্যারাগুয়ের একটি ক্যাসিনো মালিক নেলসন বেলোত্তির আমন্ত্রণে রোনালদিনহো ও তার ভাই দেশটিতে আসেন। যেখানে বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার কাছে বর্তমানে ব্রাজিলের পাসপোর্ট নেই। জেলে অবশ্য তার সময়টা খারাপ কাটেনি। কারাগারে ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছেন এবং ৫ গোল করেছেন। শুধু তাই নয়, জমিয়ে ফুটভলিও খেলেছেন। তবে এক খুনের আসামির কাছে হেরে যান।
রোনালদিনহো ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর থেকে নিজের ব্রাজিলিয়ান পাসপোর্ট হারিয়েছেন। ব্রাজিলের লেক গুয়াইবাতে অনুমতি ছাড়া একটি চিনির কল বানানোয় তাকে ২৩ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল এবং জরিমানা দিতে না পারায় তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল। আর এজন্যই তাকে প্যারাগুয়ে যেতে জাল পাসপোর্ট বানাতে হয়েছিল।
