নওগাঁর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১১৫ পরিবারের দিন চলে খেয়ে না খেয়ে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৯

করোনার জন্য জীবন অচল

মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লি সুলতানপুর। এখানে পুকুরকে কেন্দ্র করে চারিদিকে ১১৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভুঁইয়া সম্প্রদায়ের বাস। মূল সড়ক হতে নেমে পল্লিতে এগিয়ে গিয়ে বাসরী ভুঁইয়া, গোলাপী ভুঁইয়াসহ আরো কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, হাতে কোনো কাজ নেই। তাদের ঘরে দুপুরের খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। সকালে ভর্তা ভাত বা মুড়ি খেয়ে বাইরে চলে যান, বিকালে এসে ভাত রান্না করছেন, সন্ধ্যার মধ্যে খেয়ে শুয়ে পড়বেন। এ সময় দেখা গেল বৃষ্টি নামে ছয়-সাত বছর বয়সি একটি শিশু শুধু সাদা ভাত গিলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষজন বেকার হয়ে পড়েছেন, খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের দিন।

আনন্দ ভুঁইয়া, বাবুল ভুঁইয়া জানান, তারা তিন পুরুষ ধরে এই জায়গায় বাস করছেন। তবে এই জায়গার মালিক তারা নন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান করিমের ছেলেরা এই জমির মালিক। জমির মালিক জমি বিক্রয় করলে তারা কোথায় যাবেন জানেন না। করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হলে তাদের ১১৫টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১ জন খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মাঝে মধ্যে তাদের পল্লিতে এলেও চেয়ারম্যান সাহেব ভোটের পর তাদের পল্লিতে এখনো পা দেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

হাতে কাদিয়া আর বস্তা নিয়ে মাঠে ঘাস কাটতে যাওয়ার সময় কথা হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী বাসন্তি ভুঁইয়া, নিয়তি ভুঁইয়ার সঙ্গে। নিয়তি ভুঁইয়া জানান, সকালে আধাসের চালের ভাত রান্না করে স্বামী সন্তান মিলে ভাগ করে খেয়েছেন। রাতে কি রান্না হবে এখনো তিনি জানেন না। স্বামী কাজের সন্ধানে সকালে বের হয়েছে। খাবার নিয়ে আসলে রান্না হবে অন্যথায় নয়। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের বাস। অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারই কাজ না থাকায় চরম সংকটে দিনাতিপাত করছে। সম্প্র্রতি সরকারিভাবে উপজেলার ১ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হলেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারের সমস্যাকে সেভাবে আমলে নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতা সুধির তিকির  বলেন, সাম্প্র্রতিক খাদ্য সহায়তায় আমাদের জনগোষ্ঠীকে বিবেচনা করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষরা। এ সব মানুষকে রক্ষার জন্য তিনি জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন বিএসডিওর নির্বাহী পরিচালক আবদুর রউফ বলেন, নওগাঁয় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষরা দরিদ্রের মধ্যে দরিদ্র। সংকটকালীন সময়ে তারাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে থাকে। তাই সরকারি খাদ্য সহায়তায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার প্রদান করা দরকার বলে মনে করছি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর খাদ্য সংকট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য রনজিত কুমার বলেন, ১০টি কার্ড ভাগে পেয়েছেন। সুলতানপুরের দুই জনের নাম লিস্টে রেখেছি। তবে এই পল্লির সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন সরকার বলেন, পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।