ফটিকছড়িতে খরায় পুড়ছে ১৭ চা-বাগান

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:৫০

উত্পাদনে ধসের আশঙ্কা

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

ফটিকছড়িতে প্রচণ্ড খরায় মরে যাচ্ছে ১৭টি বাগানের চা-গাছ। পাতা ও গাছগুলো শুকিয়ে বির্বণ হয়ে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহ দু-একের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে চা-বাগানগুলো। এদিকে গেল মৌসুমে চায়ের রেকর্ড পরিমাণ  উত্পাদন হলেও এবার খরা পরিস্থিতি আর কিছুদিন অপরিবর্তিত থাকলে উত্পাদনে মারাত্মক ধস নামবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলায় ছোটো-বড়ো মিলিয়ে মোট ১৭টি চা-বাগান রয়েছে। এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বাগানে রয়েছে নিজস্ব সেচ ব্যবস্থা। হালদাভ্যালি বাগান শতভাগ সেচ সুবিধার আওতায় রয়েছে। এ বাগানে স্থাপিত ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইনের মাধ্যমে পুরো প্ল্যান্টেশনে সেচের ব্যবস্থা করা  হয়েছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল  হওয়ায় এ ধরনের ব্যবস্থা অন্য বাগানগুলোতে নেই।

জানা যায়, প্রচণ্ড খরায় বাগানের জলাশয়ও শুকিয়ে খাঁখাঁ করছে। ভূগর্ভস্থ  পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পাম্পের মাধ্যমেও পানি তোলা যাচ্ছে না।  ফলে কোনো কোনো বাগানে ব্যবস্থা থাকলেও পানির অভাবে সেচ দিতে পারছে না। মাঝারি এবং রুগ্ণ ও দুর্বল শ্রেণির বাগানগুলোর অবস্থা  খুবই খারাপ। রুগ্ণ বাগানের  মধ্যে মোহাম্মদ নগর, আঁধারমানিক, নাছেহা, দাঁতমারা এবং মাঝারি বাগানের মধ্যে পঞ্চবটি, মা জান, এলাহিনূর প্রভৃতি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। কোনো কোনো বাগানে শ্রমিকরা কলসি, বালতি ইত্যাদির মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে চা-গাছ  বাঁচানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকে  বৃষ্টির ছিটেফোঁটাও পড়েনি। দিনে প্রচণ্ড রোদে তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকছে। এ অবস্থায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মাটি শুকিয়ে ইট হয়ে যাচ্ছে। এ খরায় মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে  নতুন প্ল্যান্টেশনে রোপণ করা চারা গাছ এবং বাগানের নার্সারির চারা। এছাড়া ক্লোন গাছগুলোও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী আশঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমকে  বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে অধিকাংশ গাছ মরে যাবে। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে সবগুলো বাগান। এভাবে খরা অব্যাহত থাকলে রোগবালাইও দেখা দিতে পারে বাগানে।

বাংলাদেশ চা-সংসদের চেয়ারম্যান ও হালদাভ্যালি চা-বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের  কারণে  চা উত্পাদন হয়েছিল রেকর্ড পরিমাণে। এবার যে খরা  চলছে তাতে উত্পাদনে ব্যাপক ধস নামার আশঙ্কা হচ্ছে। তা ছাড়া অনাবৃষ্টির কারণে চায়ের গুণমানও ক্ষুণ্ন হয় বলে তিনি জানান।