সিরিয়ায় ফের দূতাবাস খুলল সংযুক্ত আরব আমিরাত

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮

প্রায় আট বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া সিরিয়ার দূতাবাস ভবন ফের চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বৃহস্পতিবার পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে ফের দূতাবাসের কাজ শুরু হয়েছে। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার শুরুর দিকেই আবুধাবি এই দূতাবাসটি গুটিয়ে নিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও সৌদি মিত্র হিসেবে পরিচিত এ দেশটির দামেস্কে ফের দূতাবাস খোলার ঘটনাকে বাশার আল-আসাদের জন্য বড় ধরনের কূটনীতিক বিজয়, বলছেন পর্যবেক্ষকরা। সিরিয়ায় কয়েক বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে আবুধাবি আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদেরই সমর্থন দিয়ে আসছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি ডিসেম্বরেই সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ন্যাটো ও আরব মিত্রদের চমকে দিয়েছিলেন। ওই ঘোষণার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাত দামেস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হয়। রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতায় আসাদ এরই মধ্যে সিরিয়ার অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। মস্কোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় গুটিয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটও (আইএস)। ইদলিব ছাড়া বাকি এলাকাগুলোতেও সরকারি বাহিনী নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিশ্চিত করেছে। দেশটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস খোলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আবুধাবি বলছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং ‘আরব ও সিরিয়ার বিষয়ে’ যেন অন্য কোনো আঞ্চলিক শক্তি প্রভাব বিস্তার না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই দামেস্কে দূতাবাস খোলা হয়েছে। টুইটারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ আট বছর পর দূতাবাস খোলার খবর দিয়ে বলেন, সিরিয়াকে ফের আরব লীগে নিতে অন্যান্য দেশেরও সম্মতি প্রয়োজন। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির দামেস্ক সফর করেছেন। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে এটিই কোনো আরব রাষ্ট্র প্রধানের প্রথম সফর। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই ইরানের প্রভাব রুখতে তত্পর হয়ে উঠেছে আরব লীগ; তারই ধারাবাহিকতায় সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এসব পদক্ষেপ।