২০১৮ সালে অনিরাপদ কর্মক্ষেত্রের কারণে বিভিন্ন সেক্টরে ৮৯৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩৪১ জন। এক বছর আগে অর্থাত্ ২০১৭ সালে কর্মক্ষেত্রে এক হাজার ২৪২ জন শ্রমিক নিহত এবং ৩৭১ জন শ্রমিক আহত হয়েছিলেন । অবস্থা পরিবর্তনে সংশোধিত ২০১৮ শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর আলোকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধানের কার্যকর প্রয়োগের লক্ষ্যে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ওশি) বার্ষিক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং ওশির মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
ওশি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ আর চৌধুরী রিপন সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কাসের সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমান, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস সম্পাদক লুত্ফুন্নাহার লুত্ফা, ওশি প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাজ্জাদ কবির ভূঁইয়া এবং জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত অ্যাজবেসটসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক আবুল কালাম।
এ আর চৌধুরী রিপন বলেন, ২০১৮ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ১৫৭ জন প্রাতিষ্ঠানিক খাতে এবং ৭৪১ জন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করতেন।
সেক্টরভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ২৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, ১৬৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন নির্মাণ খাতে, পোশাক শিল্পে নিহত ২৮ জন শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যা ১০৮ জন, স্টিলমিল ও রি-রোলিং মিল শ্রমিক ৭ জন এবং দিনমজুর নিহত হয়েছেন ৪৬ জন। এ ছাড়া, ১২ জন গৃহকর্মী, ১৯ জন শিপব্রেকিং শিল্পে কর্মরত শ্রমিক এবং ১৮ জন পাথর ও খনিজ উত্তোলনের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যান্য সেক্টরে নিহতের সংখ্যা ২০৬ জন।
প্রতিবেদনে কর্মস্থলে হতাহতের উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে কর্মস্থলে আসা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত, বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়া, উপর থেকে পড়ে যাওয়া, মাটি বা পাথর চাপা, ভবন বা দেয়াল অথবা নির্মাণ সামগ্রী ধস, বিষাক্ত গ্যাসে আটকা পড়া অথবা শ্বাসরোধ হওয়া, অগ্নিকাণ্ড, গৃহশ্রমিকদের ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন এবং ধাতব আঘাতের কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে আরও যেসব সুপারিশ তুলে ধরা হয় তার মধ্যে- বয়লার পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং বয়লার পরিদর্শন দপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা, কর্মস্থলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, সরকারি হাসপাতালে পেশাগত রোগের চিকিত্সার জন্য বিশেষায়িত চিকিত্সকের সংখ্যা বাড়ানো, পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য একটি পৃথক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের পরিবার ও আহত শ্রমিককে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনাধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা উল্লেখযোগ্য।
