কথা রেখেছে বিসিবি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৫

করোনা ভাইরাসের কারণে এক রাউন্ড পরই স্থগিত হয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ১৯ মার্চ দেশে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে অর্থ সঙ্কটে পড়ে গেছেন বিসিবির সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে না থাকা ক্রিকেটাররা, যারা বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলছেন। কাঠামোর বাইরে থাকা এসব ক্রিকেটারের জন্য প্রিমিয়ার লিগই রুটি-রুজির মূল অবলম্বন। লিগ শুরুতেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ ক্লাবই পারিশ্রমিক দেয়নি ক্রিকেটারদের।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিসিবি। গত ২৮ মার্চ বিসিবি সভাপতি ঘোষণা দিয়েছিলেন, দুর্যোগকালীন বিসিবির কাঠামোর বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

কথা দিয়ে কথা রেখেছে বিসিবি। প্রতিশ্রুত অর্থ চেকের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাবের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ৯৬ ক্রিকেটারের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে চেক সিসিডিএমের (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) হাতে তুলে দিয়েছে বিসিবি। সিসিডিএমও তা বণ্টন করে দিয়েছে ক্লাবগুলোর কাছে।

এদিন কয়েকটি ক্লাবের প্রতিনিধি, ১০-১২ ক্রিকেটার নিজে এসে চেক নিয়ে গেছেন। অনুদান পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রয়েছেন ব্রাদার্স ইউনিয়নে। এই ক্লাবে এবার প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন ১৪ জন ক্রিকেটার যারা বিসিবির কোনো কাঠামোতেই নেই। পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের ৮ জন, খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির ৭ জন ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ৬ ক্রিকেটার রয়েছেন এই তালিকায়।

গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটার রাসেল আল মামুন জানিয়েছেন, ক্লাব থেকে ফোন করে টাকার কথা বলা হয়েছে। কুমিল্লার এই ক্রিকেটার গতকাল বলেছেন, ‘ক্লাব থেকে আমাদেরকে জানানো হয়েছে। চেক ক্লাবের কাছেই আছে। আমি এখনও হাতে পাইনি। কারণ আমি তো কুমিল্লায়। ২-১ দিনের মধ্যে হাতে পাব আশা করছি।’

ওয়ানডের নেতৃত্ব ছেড়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অবসর না নিলেও কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কার্যত খেলেন না তিনি। তাই বিসিবির কোনো চুক্তি কাঠামোতেই নেই মাশরাফি। ফলোশ্রুতিতে কাঠামোর বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য বিসিবির অর্থ সহযোগিতার তালিকায় রয়েছে মাশরাফির নাম। তার চেকও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের প্রতিনিধির কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

যদিও কদিন আগেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বেতনের অর্ধেক করোনা তহবিলে দিয়েছিলেন মাশরাফি। একই অবস্থা হয়েছে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও শফিউল ইসলামের। জাতীয় দলের মাধ্যমে দান করলেও বিসিবির অর্থ সহয়তার তালিকায় আছে তাদের নাম। আবাহনীর বিপ্লব ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের শফিউল পাচ্ছেন এককালীন ৩০ হাজার টাকা করে অর্থসাহায্য।