নিউ ইয়র্কে করোনায় মারা গেলেন পিরোজপুরের আইনজীবী সারোয়ার

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৪

বৈশ্বিক মহামারিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনির শরীরে ঢুকিয়েছেন করোনা ভাইরাস। পরীক্ষায় যখন পজিটিভ ধরা পড়ল ততক্ষণে সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে। ঘরে আক্রান্ত হয়েছেন তার বাবা। আর বাবাকে সেবা দিচ্ছিলেন মা। মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে বাবা পিরোজপুরের অ্যাডভোকেট সারোয়ার হোসেন পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।

এখন মা অধ্যক্ষ রেনু সুলতানাও অসুস্থ। তার এখনো কোভিড-১৯ পরীক্ষা হয়নি। বাবা যে বেঁচে নেই তা অসুস্থ মাকে জানানো হয়নি। অন্যদিকে বাবার মৃত্যুর খবর শুনে কাঁদতেও পারছেন না জনি, যদি তার মা জেনে যায় এই আশঙ্কায়। সহকর্মীরা বাবার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সন্তান হিসেবে কিছুই          করতে পারছেন না ডিটেকটিভ জনি।

লম্বা ছুটি কাটিয়ে স্ত্রী ও কন্যাকে বাংলাদেশে রেখে ইমিগ্রান্ট বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় এক মাস আগে নিউ ইয়র্কে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেন ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি। নিউ ইয়র্ক পুলিশের ‘হিরো’ উপাধি পাওয়া জনি বর্তমানে ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত। পেশাগত কারণে সাদা পোশাকে (আন্ডারকভার) অনেক জায়গায় যেতে হয় তাকে। পুরো নিউ ইয়র্ক যখন লকডাউন তখনো দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় হাসপাতালে মারা যান ডিটেকটিভ জনির বাবা অ্যাডভোকেট সারোয়ার হোসেন। তার মরদেহ এখনো হাসপাতালে অস্থায়ী হিমঘরে রয়েছে। মরদেহ বুঝে পেলে ফিউনারেল হোমের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন করা হবে লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল মুসলিম কবরস্থানে। আইন অনুযায়ী পাঁচ-সাত জন অংশ নিতে পারবেন জানাজায় এবং দাফন কার্যক্রমে।

অ্যাডভোকেট সারোয়ার হোসেন পিরোজপুর শহরের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন। তার সহধর্মিণী রেনু সুলতানা পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। ছোটো ছেলে জনির আবেদনে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট হয়েছেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে তারা আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন।

নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত হাজার হাজার। কিন্তু আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার কোনো হিসাব নেই কারো কাছেই।