রোকসানা সুইটি
করোনা ভাইরাস সম্পর্কে নতুন করে আর বলার মতো কিছুই নেই মনে করাটা ভুল। এখনো মানুষ কেনো সচেতন হচ্ছে না তা বুঝতে পারাটা মুশকিল। যেখানে আমেরিকা, ফ্রান্স, চীন, ইতালির মতো দেশ এর প্রকোপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ কতটা কি করতে পারবে তা ভাবার বিষয়। বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই করোনা মোকাবিলায় তাদের উদ্যোগকে। আমরা বাঙালিরা আসলেই বীরের জাতি। করোনা মোকাবিলার জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য সরকার যতগুলো পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে তার ব্যাপারে আমরা সেই পরিমাণ সহযোগিতা করছি না বললেই চলে। এখনো কিছু মানুষ কুসংস্কার আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে রয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের সম্মানিত ব্যক্তিগণ জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা সাধারণ জনগণ তাদের কতটুকু সাহায্য করছি তা সত্যিই ভাববার বিষয়। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই এ মুহূর্তে সম্ভব না। প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ তাদের দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র অবহেলা করছেন না।
আমার বর্তমান অভিজ্ঞতা থেকে বলব সাধারণ জনগণকে বুঝানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টায় তাদের ত্রুটি নেই। আমি যে এলাকায় থাকি সেখানকার চিত্র সত্যি অবাক হওয়ার মতো। পুলিশের গাড়ি আসলেই হুইসেল বাজার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে আবার তারা ফিরে এসে অপ্রয়োজনেও আড্ডায় মেতে ওঠে। এ যেন চোর পুলিশ খেলা! সামাজিক দূরত্ব বজাই রাখার জন্য নেই তাদের এতটুকু জ্ঞান বা বিবেক। মনে হয় যেনো মৃত্যুভয়ও তাদের মধ্যে কাজ করে না। অবাক লাগে এমন চিত্র চোখের সামনে দেখলে। যখন লাঠিচার্জ করে তখনই পালায়। মৃত্যুভয়ের চেয়ে যেনো লাঠির ভয়ই বেশি।
প্রথমে যখন এই করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা জানতাম না তখনকার বিষয় ছিলো ভিন্ন। এখন যেভাবে মহামারি আকার ধারণ করেছে তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। জানি না আমাদের জন্য সামনের সময়টাতে কি অপেক্ষা করছে! যারা করোনা রোগীদের চিকিত্সা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে অক্লান্তভাবে, সেই সব চিকিত্সকদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি ধিক্কার জানাই সেই সব চিকিত্সককে যারা কি না সেবাকারীর শপথ নিয়েও সেই দায়িত্ব পালনে পিছু হটে। ধিক্কার জানাই সেই সব মানুষরুপি অমানুষদের যারা কি না গরিব দুঃখী মানুষের ত্রাণসামগ্রী চুরি করছেন। তাদের হক আদায় না করে। আমি আরো ধিক্কার জানাই সেই সব মহান ব্যক্তিবর্গকে যারা কি না ত্রাণ বিতরণ করেন শুধুমাত্র ছবি তুলে তা প্রচারের জন্য।
একজন হতদরিদ্র মানুষকে ঘিরে ধরে থাকেন ১০ থেকে ১৫ জন মানুষরুপি অমানুষ, ছোট্ট একটি প্যাকেটকে ধরে তা প্রদান করেন আর ছবি তোলাতেই ব্যস্ত থাকেন। লজ্জা বলে যে কিছু আছে তা যেনো তাদের জানাই নেই। আর কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের সম্মানিত সাংবাদিক ভাইবোনদের প্রতি যারা কি না জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করে যাচ্ছেন। আমাদের ঘরে থাকার জন্য তারা ঘরে ফিরছে না। তাদের পেশাদারি কাজের সঙ্গে সঙ্গে আছে অনিশ্চিত জীবন। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে তাদের ত্যাগ। যেখানে ঘরে থেকে আমরা সুস্থ থাকতে পারি সেখানে তারা ঘরের বাইরে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। জীবন মরণের মাঝে এখন শুধুই একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন! পুরো পৃথিবী আজ থমকে গেছে। স্তব্ধ হয়ে আছে চারদিক। সেই চিরচেনা শহর আজ বড্ড অচেনা লাগে। কোনো যানজট নেই! নেই কোনো অফিসে যাওয়ার তাড়া! নেই আজ স্কুলে যাওয়া সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা মায়ের উত্কণ্ঠা। আজান দিচ্ছে তবে মসজিদে যাওয়ার তাড়া নেই। জীবন যেনো আজ থেমে আছে এক অজানা আশঙ্কায়। কি হয়! কি না হয় এটাই ভাবনাতে কড়ানাড়ে বারংবার।
n লেখক :সাবেক শিক্ষার্থী, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
