নারায়ণগঞ্জের ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ২২:০২

বিপাকে সাধারণ রোগী

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে জেলাটিকে করোনা ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাটিকে সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণা করে চিকিত্সাসহ জরুরি পরিসেবা চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগী। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের এমন আচরণ অমানবিক বলেও মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। গত বৃহস্পতিবার শহর ঘুরে দেখা যায়, মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রেস ক্লাব গলির শাখা, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল সার্ভিসেস, সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্রাইম জেনারেল হসপিটালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। একদিকে করোনা নিয়ে মানুষের আতঙ্ক অন্যদিকে এসব স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সাধারণ রোগের জন্য রক্ত, ইউরিন পরীক্ষা, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি করা যাচ্ছে না। তাছাড়া করোনা ছাড়াও অন্য রোগের জন্য ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি হতে পারছেন না তারা। তবে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের লোকজন বলছেন, বেসরকারি এসব ক্লিনিকে যারা চিকিত্সা দেন তারা বেশির ভাগই ঢাকা কিংবা অন্যান্য জেলা থেকে এসে চিকিত্সা দিতেন। তারা কেউ কেউ করোনা আতঙ্কের কারণে নারায়ণগঞ্জে আসতে চান না আবার অনেকেই যানবাহন সংকটের কারণে এখানে আসতে পারেন না। যার ফলে তারা ক্লিনিকগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে জানা যায়, শহরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসাপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল এই দুটি হাসপাতাল রয়েছে। এই দুটির মধ্যে ৩০০ শয্যাকে করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিত্সা শুরু হলে অন্য রোগীর চিকিত্সা বন্ধ থাকবে হাসপাতালটিতে। ফলে রোগীদের চাপ পড়বে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। এদিকে এই হাসপাতালের একজন চিকিত্সক-নার্সসহ চার জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে গত কয়েক দিন হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার জীবাণুমুক্ত করার পর সকল বিভাগের কার্যক্রম চালু হয়েছে। তবে এখনো জরুরি বিভাগের চার জন চিকিত্সক কোয়ারেন্টাইনে আছেন। যার ফলে চিকিত্সক সংকট রয়েছে হাসপাতালটিতে। এদিকে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে আগামীতে চিকিত্সাসেবায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। নারায়ণগঞ্জের চিটাগাংরোড শিমরাইলে ‘মা’ বেসরকারি হাসপাতালে ঢাকার বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অন্তত ১৫ জন ডাক্তার নিয়মিত বসতেন। কিন্তু এখন একজনও আসেন না। জরুরি কোনো অপারেশন করতে হলে ডাক্তারদের ফোন করে ডেকে আনতে হচ্ছে। রোগী সম্পর্কে জেনে তার পর ডাক্তার আসছেন। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের রোগী দেখছেন না।