টিকা আবিষ্কারে মরিয়া বিশ্ব

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ২২:১২

মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। কোভিড-১৯ থেকে মানবজাতিকে রক্ষায় কার্যকর ওষুধ ও টিকা আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের সেরা সব বিজ্ঞানীরা এখন নানা দেশের গবেষণাগারে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশ্বনেতারা ছুটছেন ওষুধ বা ভ্যাকসিনের পিছনে। বিশ্বসেরা ধনি বিল গেটস থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্র,বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি  ও দাতব্য প্রতািষ্ঠান অকাতরে অর্থ ঢালছে গবেষণার পেছনে। বিশ্বে অন্তত ৪৪টি প্রকল্পে নিরবিচ্ছিন্ন কাজ চলছে অহর্নিশি। ইতিমধ্যে ২০টি প্রকল্পে                 মিলেছে অগ্রগতি।

চারিদিকে একই প্রশ্ন, কবে আসবে সেই নিরাময় প্রতিষেধক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য একেবারে নতুন। এখন পর্যন্ত করোনার যতগুলো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে তার পরীক্ষামূলক ট্রায়েলের জন্য প্রয়োজন সময়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যে গবেষকদলগুলো ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের সঙ্গে তারা নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছেন। করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে এখন পর্যন্ত যতটা অগ্রগতি হয়েছে, অতীতে অন্য কোনো রোগের টিকা আবিষ্কারে এত অল্প সময়ে এত বেশি অগ্রগতি হয়নি।

সমপ্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে তার অনুমোদনের জন্য প্রয়োজন আরো ১০-১২ মাস সময়। চীন ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে অনেক এগিয়েছে। তবে এরই মধ্যে অন্তত ডজন খানেক ওষুধ  কোভিড-১৯ চিকিত্সার সারিতে জমা হয়েছে। সরাসরি নভেল করোনাভাইরাসের জন্য তৈরি না হলেও অন্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করা এসব ড্রাগের পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছে। এইসব অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মধ্যে অন্যতম জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এর তৈরি  ‘অ্যাভিগান’ (যার জেনেরিক নাম ফ্লাভিপাইরাভির) । যেটি ২০১৪ সাল থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিত্সার জন্য তৈরি করা হয়।  চীন উহানে  কোভিড-১৯ এ ব্যাপক প্রাণহানির পর সেই দেশের সরকার গত মার্চে দাবি করে, অ্যাভিগান ওষুধ ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে ভাল কাজ দিয়েছে। তৃতীয় ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে থাকা অবস্থায় ২০টি দেশে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে ফ্লু-রোধী ‘অ্যাভিগান’ ওষুধ সরবরাহের পরিকল্পনা কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তশিমিসু মোতেগি। বর্তমানে বিশ্বের ২০টি দেশে এই ওষুধটির ট্রায়াল চলছে। অ্যাভিগান সত্যি যদি করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারে, তাহলেএটি হবে এই শতকের সবচেয়ে বড় অর্জন।

গতকাল ’দ্য টাইমস’সহ কয়েকটি প্রভাবশালী পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের টিকা আর চার মাস পরই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক। করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে কাজ করা সারাহ গিলবার্ট নামে ওই ভাইরোলজিস্ট এক সাক্ষাত্কারে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা প্রস্তুত হতে পারে। তিনি আরও জানান, তার টিম যে টিকা আবিষ্কার করতে যাচ্ছে তা ৮০ ভাগ কার্যকর হবে ভাইরাসটি প্রতিরোধে। বর্তমানে ব্রিটেনের যে চিকিত্সা গবেষক দলটি কোভিড-১৯ এর টিকা তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে- সারাহ গিলবার্ট সেই দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এদিকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোও। জাপানের ট্যাবলেট অ্যাভিগান ওষুধটি এখন বাংলাদেশের বেক্সিমকো ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি শুরু  করেছে। বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস আজ রবিবার ওষুধটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসনে হস্তান্তর করবে। ম্যাটেরিয়াল স্বল্পতার কারণে এখন মাত্র ১০০ রোগীর জন্য ওষুধটি তৈরি হবে, তবে এ মাসের মধ্যেই ওষুধটি উত্পাদন বাড়াতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিকন ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস যে সমস্ত হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি আছে সেখানে ওষুধটি পৌঁছে দেবে। প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ৪০০ টাকা হলেও এখন এটি বিনামূল্যে আক্রান্ত রোগীদের সরবরাহ করা হবে। এসকেএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন বলেছেন, ইতিমধ্যে আমরা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রস্তুত করেছি। অতিসত্বর আমরা ফ্যাভিপিরাভির, ওসেল্টামিভির ও ইভারমেকটিন প্রস্তুত করতে যাচ্ছি।

এদিকে গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইনোভিওতে কাজ করা বিজ্ঞানী কেইট ব্রোডেরিক আশা করছেন এ বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ তারা ???কোভিড-১৯ টিকার দশ লাখ ডোজ তৈরি করতে পারবে।