জ্বর নিয়ে রাস্তার পাশে দিনমজুর, করোনা সন্দেহে কেউ গেল না, অবশেষে মৃত্যু

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৩

জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার পাশে সারাদিন পড়ে রইলেন দিনমজুর আবদুুস সামাদ মণ্ডল। করোনা সন্দেহে কেউ এগিয়ে গেল না তার কাছে। খবর পেয়ে উপজেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ফরিদপুর থেকে করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্স দেরি করে আসায় রাস্তাতেই মৃত্যু হয় হতভাগা দিনমজুরের। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায়। ঘটনার শিকার আবদুস সামাদের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়।

এদিকে শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত মরদেহের কোনো স্বজন না পাওয়ায় লাশ পুলিশ হেফাজতে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুপুরে সামাদের ছেলে সেখানে গেলে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স ও পিপিই পরিহিত চার জন কর্মী ঝিনাইদহ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবে মরদেহ। এসব তথ্য জানিয়েছেন, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান বুলু। একই সঙ্গে তার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর এ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, আবদুস সামাদ মণ্ডল কামারখালীতে এসেছিলেন দিনমজুরের কাজ করতে। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় কাজ করতে পারেননি। গাড়ি বন্ধ থাকায় তিনি একটি ভ্যানযোগে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। তবে পথিমধ্যে জ্বরের রোগী জানতে পেরে তাকে ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের মাঝিবাড়ীতে একটি জুট মিলের সামনে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায় ওই ভ্যানচালক। এভাবে সারাদিন ওখানেই পড়ে ছিলেন মুমূর্ষু আবদুস সামাদ। ওই পথ দিয়ে অনেকেই যাতায়াত করলেও কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি করোনা আক্রান্ত সন্দেহে। খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে সেখান যান মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ সদস্যরা।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ডা. মো. জুয়েল জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে ওই রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে আনা হয়। ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, ওই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স দেরি করে পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আগে দু-এক জায়গায় চেষ্টা করেছে, সেটা আমার জানা নেই। আমাকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছি।’