আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী চলমান গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবাসমূহ, খাদ্যদ্রব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, ওষুধ, কৃষিপণ্য, সার ও কীটনাশক, মত্স্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতের দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, শিশুখাদ্য, জীবন ধারণের মৌলিক উপাদান উত্পাদন ও পরিবহন, গণমাধ্যম ও ত্রাণবাহী পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলেও তিনি জানান। গতকাল শনিবার ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। ত্রাণ বিতরণের নামে কোনো রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্পষ্টভাবে একটা কথা বলতে চাই, ত্রাণ বিতরণে কোনো রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তারা যেই হোক তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’ করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘করোনা নামক এই অদৃশ্য শক্তিকে পরাজিত করতে আমাদের সবাইকে আজ দল-মতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব মতপার্থক্য ভুলে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবাইকে ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে জিততে হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা নির্দেশনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। একটি কুচক্রী মহল এই দুর্যোগকালে বিভিন্ন গুজব ছড়াচ্ছে। এসব গুজবের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকাতে হবে এবং গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ওবায়দুল কাদের এই দুর্যোগে খেটে খাওয়া কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানান এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চলমান সহায়তা প্রচেষ্টা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। করোনা সংকটে নিবেদিত চিকিত্সক-নার্স, হাসপাতালের কর্মী, চিকিত্সা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অতীতের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মনে রাখতে হবে, ঘরে ঘরে অবস্থান এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে যারা পারবেন না, তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য বিপদ ডেকে আনবেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর ২৮তম স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। আর বাকি রইল ১৩টি স্প্যানের কাজ। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশি-বিদেশি সব প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান, শ্রমিক ও পরামর্শক তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাওয়ায় শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
