মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং ত্রাণ বিতরণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত না থাকার বিষয়ে কেন্দ ীয় প্রশাসন অসন্তুষ্ট। গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইউসূফ হারুন বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া এক নির্দেশনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসূফ হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং ত্রাণ বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতি চিহ্নিত করে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তা এই দুর্যোগের সময় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে না এবং নানা অজুহাতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গক্রমে, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক রাত ৩টার সময় এক মুদি দোকানদারকে বাড়িতে গিয়ে অপদস্ত করার বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন অনেক ক্ষেত্রেই ত্রাণ বিতরণকালে তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) অনুপস্থিত থাকছেন ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা এবং অনিয়ম ধরা পড়ছে। এটা কোনোক্রমেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইউএনও প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবে। জেলা প্রশাসক সেটি যাচাই বাছাই করবে এবং কমিশনারের মাধ্যমে কেন্দে পাঠাবে। যেক্ষেত্রে ইউএনও অনুপস্থিত থাকবেন সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক তার প্রতিনিধির মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মাঠ প্রশাসন থেকে কর্তব্যকাজে অবহেলা সম্পর্কিত বেশ কিছু অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঐ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, করোনার দুর্যোগের কারণে সরকারের দেওয়া ত্রাণ আত্মসাতের বেশ কিছু ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে এবং ঘটছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকটি জায়গা থেকে ত্রাণের চাল জব্দ করেছে।
