প্রণোদনার অর্থ ছাড় করতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধির জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার (২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত এই বিশাল আকারের ঋণের অর্থ রাজ্যগুলোসহ বিভিন্ন শহর এবং পৌরসভা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত প্রণোদনার অংশ হিসেবে এই অর্থ ছাড় হচ্ছে।
সিএনএন এর সংবাদ অনুযায়ী ৫০ হাজার কোটি ডলার (৫০০ বিলিয়ন) স্বল্প মেয়াদে ঋণ আকারে দেওয়া হবে। সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলার দেওয়া হবে ঋণের সুরক্ষা আকারে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের মাঝে অর্থের প্রবাহ ঠিক রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সিএনএন এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোমি পাওয়েল বলেছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। ফেড জানিয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বাড়তি ৬০ হাজার কোটি ডলার ঋণ দিতে পারবে। ফেড ইতিপূর্বে সুদ হার শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে এনেছে। করোনার প্রভাবে যখন মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সে সময়ে এমন উদ্যোগের ফলে অর্থনীতি সচল থাকবে বলে ফেড আশা করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ জন অর্থনীতিবিদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন মন্দা চলছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হয়ে আসবে। ফলে সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা আসবে কর্মসংস্থানে। আলোচ্য সময়ে বেকারত্বের হার ১২ শতাংশে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন অর্থনীতিতে ভোক্তাদের ব্যয় বড়ো ভূমিকা রাখছে। লকডাউনের ফলে ভোক্তা ব্যয় অনেক কমে এসেছে।
৫৪ হাজার কোটি ডলার প্যাকেজ ঘোষণা ইইউর
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৫০ হাজার কোটি ইউরো বা ৫৪ হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজ গ্রহণে সম্মত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা। বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী ইইউর চেয়ারম্যান মারিও সেন্তেনো ব্রাসেলসে দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই প্যাকেজের ঘোষণা দেন।
ব্রাসেলসের আলোচনায় করোনা ভাইরাস সংকটের খরচ মেটাতে করোনাবন্ড ইস্যুর প্রস্তাব দিয়েছিল ফ্রান্স ও ইতালি। সে প্রস্তাবে সম্মত হননি ইইউ মন্ত্রীরা। তবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) এর আগে বলেছিল, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেড় লাখ কোটি ইউরো প্রয়োজন। তার চেয়ে কম সহায়তার বিষয়ে সম্মত হল দেশগুলো। বুধবার চুক্তিটি হওয়ার কথা থাকলেও সহায়তা বরাদ্দ কীভাবে খরচ করা হবে এ নিয়ে ইতালি ও নেদারল্যান্ডস আপত্তি তুললে পিছিয়ে যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
