দুর্বৃত্তের গুলিতে রাঙ্গামাটি জুরাছড়ি বনযোগীছড়ায় হেমন্ত চাকমা নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তার আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াতে গেলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুরাছড়ি যক্ষ্মা বাজার আর্মি ক্যাম্পের কিছু দূরে হেমন্ত কুমার চাকমা আত্মীয়ের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে যায়। রাত ১১টার দিকে তারা কয়েকজন বসে গল্প করার সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন ছোটাছুটি করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে আত্মীয়স্বজন তাকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য হেমন্ত চাকমা এক সময় পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে ইউপিডিএফ থেকে পদত্যাগ করে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়রা আরো জানান, বর্তমানে জুরাছড়ি উপজেলায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সন্তু গ্রুপের একক আধিপত্য বিরাজ করছে। দীর্ঘ বছর ধরে আঞ্চলিক আর কোনো সংগঠন জুরাছড়ি উপজেলায় অবস্থান করতে পারেনি।
