তথ্য গোপন করা মাদ্রাসা অধ্যক্ষ করোনায় মারা যাওয়ার খবরে তোলপাড়

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:১৩

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ইছাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাগঞ্জের একটি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ তথ্য গোপন করার পর হাসপাতালে মৃত্যুর পর করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় শিয়ালদি ও মোস্তফাগঞ্জের সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। ঐ ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা লোকজনের ১০টি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গেন্ডারিয়ার যে হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগে ছিলেন সেখানকার কয়েক জন চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। ঢামেকের সার্জারি ওয়ার্ড বন্ধ রাখা হয়েছে।

মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ গত ৫ এপ্রিল জ্বর, সর্দি ও কাশিতে অসুস্থ হয়ে তথ্য গোপন করে ঢাকার গেন্ডারিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। একইভাবে তথ্য গোপন করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর মৃত্যুর পর গত ৯ এপ্রিল আইইডিসিআরের রিপোর্টে তিনি করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হন। ঐ ব্যক্তির জানাজায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

গেন্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তির সময় তিনি তথ্য গোপন করে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ব্যথার কথা বলেন। হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর চিকিত্সকদের সন্দেহ হয়। ৮ এপ্রিল তাকে ঐ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির সময় তিনি তার প্রকৃত উপসর্গের তথ্য গোপন করেন। তিনি বলেন, তার বুকে ব্যথা ও পাইলস হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ঢামেক হাসপাতালের চিকিত্সকরা তার বুকের এক্সরে রিপোর্ট দেখে সন্দেহ পোষণ করেন। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ৮ এপ্রিল রাতে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পরপর তার মৃত্যু হয়। তার আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে কোনো তথ্য যাচাই না করেই স্বাভাবিক মৃত্যুর সনদ নিয়ে লাশ নিয়ে যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদি গ্রামে। ৯ এপ্রিল সকালে মোস্তফাগঞ্জ মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় তার আত্মীয়-স্বজনসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

এদিকে ৯ এপ্রিল দুপুরে আইইডিসিআর থেকে ঐ ব্যক্তির করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ খবর সিরাজদিখান থানায় দেওয়া হয়। সিরাজদিখান থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর মধ্যম শিয়ালদি গ্রামে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে জানতে পারে যে ঐ ব্যক্তির ঢাকায় চিকিত্সা ও লাশ আনার কার্যক্রমের সঙ্গে অন্তত ২০ জনের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ঘটেছে। এমনকি তারা ঢাকা থেকে লাশ স্বাভাবিক নিয়মে গ্রামে নিয়ে আসে। লাশের গোসল করার সময় কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে মধ্যম শিয়ালদি ও মোস্তফাগঞ্জ গ্রামে পুলিশ মাইকিং করে। ঐ দুই গ্রামের কেউ যেন বাইরে না যায়। এছাড়া ঐ ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা লোকজনের ১০টি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়।