জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাত ১২টা ১ মিনিটে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ছয় আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হলো। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামি। এর আগে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফাঁসি কার্যকর করা হয়—সৈয়দ ফারুক রহমান, এ কে বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদের (ল্যান্সার)। তবে রায় কার্যকরের আগেই ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান আজিজ পাশা। বর্তমানে পলাতক রয়েছেন খন্দকার আব্দুর রশিদ, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেহ উদ্দিন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল উদ্বোধন হওয়া এ কারাগারে (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ) এটাই হবে কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রথম ঘটনা।
ফাঁসির প্রস্তুতি
গতকাল দুপুরে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির রেকি করেন জল্লাদরা। জল্লাদ শাজাহানের নেতৃত্বে অপর দুই জন ছিলেন মনির ও সিরাজ। ফাঁসি কার্যকরের আগে কারা কর্তৃপক্ষ রাত ৮টার দিকে মাজেদের স্ত্রী সালেহা বেগমকে খবর পাঠায়। পরে ১০টার দিকে মাজেদের স্ত্রী সালেহা তার বোন এবং ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে কারাগারে পৌঁছান। তবে মাজেদের ছেলেমেয়েরা কারাগারে যাননি। উল্লেখ্য, জল্লাদ শাজাহানের নেতৃত্বেই এর আগে ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এর আগে শুক্রবার বিকালে কারা কর্তৃপক্ষ মাজেদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইলে ফোন করে দেখা করতে বলে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর মাজেদের স্ত্রী ডা. সালেহা বেগম, মাজেদের এক ভাই, এক বোন ও এক ভাতিজাসহ পাঁচ জন কারাগারে মাজেদের সঙ্গে দেখা করেন।
এ দিকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর কারাগারের বন্দি সেলগুলো লক করে দেওয়া হয়। কারাগারের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যতটুকু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যায়—তাই করা হয়েছে। রাত ১১টার পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা মসজিদের ইমাম তাকে তওবা পড়ান।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল পাশা। সঙ্গে ছিলেন ঢাকার সিভিল সার্জন এবং জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও।
গত ৮ এপ্রিল মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের এক নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকেন মাজেদের স্ত্রী সালেহা। মাজেদের গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহান উদ্দিনে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি পলাতক ছিলেন—ক্যাপ্টেন মাজেদ তাদেরই এক জন। ৭২ বছর বয়সি মাজেদকে গত মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গ্রেফতারের পর আদালতের আদেশে মাজেদকে নিয়ে যাওয়া হয় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে। বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করে আদালত। দীর্ঘদিন পলাতক থেকে আপিলের সুযোগ হারানো মাজেদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে তাও খারিজ হয়ে যায়।
পেছনের কথা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনাসদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে অতর্কিত হানা দিয়ে শিশুসন্তান রাসেল, স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মামলা হয়। সেখানে আসামি করা হয় ২৪ জনকে। তখন থেকেই ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়। ১৯৯৮ সালে অপর আসামি বজলুল হুদাকে গ্রেফতার করে কনডেম সেলে আনা হয়। সর্বশেষ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (২০০৮) সময় পলাতক অপর খুনি এ কে এম মহিউদ্দিন ল্যান্সারকে আমেরিকা থেকে গ্রেফতার করে তাকেও ঢাকার এ কারাগারে রাখা হয়। এরপর থেকেই তারা কারাগারের কনডেম সেলে ছিলেন। এর আগে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত ঐ মামলায় ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
কে এই মাজেদ?
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালে খুনিরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যায়। আর ১১ মাসের মাথায় ১৯৭৬ সালের ৮ জুন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সবাইকে তত্কালীন সরকার বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়োগ দেয়। তবে এরমধ্যে খন্দকার আবদুর রশীদ ও সৈয়দ ফারুক রহমান ছাড়া বাকিরা চাকরির সুযোগ নেয়নি। খুনি নূর চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয় ইরানে বাংলাদেশের দূতাবাসে দ্বিতীয় সচিব পদে। পরবর্তী সময়ে তাকে আলজেরিয়া ও ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে বদলি করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত হংকংয়ের বাংলাদেশের কসনাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু নিহত হবার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবস্থা বেগতিক দেখে নূর চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে কানাডায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।
খুনি রাশেদ চৌধুরী দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ পান জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে। পরবর্তী সময়ে তাকে বদলি করা হয় কেনিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান ও ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চাকরিচ্যুত করে। দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হলেও রাশেদ চৌধুরী ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। খুনি শরিফুল হককে প্রথম সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল চিনের বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে। পরে বদলি করা হয় হংকংয়ের কনস্যুলেটে। সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে কেনিয়ায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি করা হয়। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ পদেই দায়িত্ব পালন করেন।
e½eÜy ‡kL gywReyi ingvb‡K mcwiev‡i nZ¨v gvgjvi cjvZK dvuwmi `ÛcÖvß Avmvwg K¨v‡Þb (eiLv¯Í) Ave`yj gv‡R`‡K| ‡fvjvi ‡evinvbDwÏb Dc‡Rjvi evUvgviv MÖv‡gi giûg Avjx wgqvi ‡PŠayixi ‡Q‡j | m~Î Rvbvq, Ave`yj gv‡R‡`i cwievi eZ©gv‡b XvKv ‡mbvwbev‡mi K¨v›Ub‡g›U AvevwmK GjvKvq emevm Ki‡Qb| Zvi ¯¿x †ckvq wPwKrmK| Ave`yj gv‡R` 4 Kb¨v mšÍvb I GK cyÎ mšÍv‡bi RbK| Ave`yj gv‡R` n‡jb, e½eÜy nZ¨v gvgjvq cjvZK Qq Lywbi g‡a¨ GKRb| GLb e½eÜyi 5 `ÛcÖvß Lywb we‡k¦i wewfbœ ‡`‡k cvwj‡q Av‡Q| Gi g‡a¨ iv‡k` ‡PŠayix Av‡gwiKvq I b~i ‡PŠayix KvbvWvq Ae¯’vq Ki‡Q e‡j wewfbœ mg‡q MYgva¨‡g msev` ‡ewi‡q‡Q| GQvov kwidyj nK Wvwjg, K‡b©j ikx`, gym‡jnDÏxb wimvj`vi cjvZK| Zviv mevB mv‡eK ‡mbv Kg©KZ©v| GB cvuP Lywb c…w_exi wewfbœ ‡`‡k cjvZK Ae¯’vq Av‡Qb| Zvu‡`i ‡`‡k wdwi‡q Avbvi Rb¨ `xN©w`b a‡i ‡Póv Pvwj‡q hv‡”Q miKvi|
1975 mv‡j avbgwÛi 32 b¤^i ‡iv‡W e½eÜy ‡kL gywReyi ingvb‡K nZ¨vKv‡Ûi mgq wZwb Ab¨ Lybx‡`i (Avmvwg)m‡½ mivmwi AskM«nY K‡ib|
