তিউনিসিয়ায় হাহাকার

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৪

তৌহিদ আজিজ

করোনার থাবা এখন গোটা বিশ্বকে গ্রাস করছে। ছোটো দেশ থেকে শুরু করে বড়ো দেশ কেউই এ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এ কারণে দেশে দেশে এটি মোকাবিলায় লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। অনেকটা কঠিন সিদ্ধান্ত হলেও সরকারকে বাধ্য হয়ে এ পথে হাঁটতে হচ্ছে। কারণ এই মুহূর্তে এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হবে আরো লাখো প্রাণ। কিন্তু এ কারণে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়ে গেছে বেশি বিপদে। কাজ হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছে তারা। বিশ্বের অনেক দেশেই এই অবস্থা চলতে থাকলেও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উঠে আসে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার কথা। এখানে খাদ্যের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। শত শত শ্রমিক বিক্ষোভ করছে দুমুঠো খাবারের জন্য।

গত ২২ মার্চ থেকে দেশটিতে লকডাউন চলছে। গত সপ্তাহে লকডাউন ভেঙে সরকারি অফিসগুলোর সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। তাদের বক্তব্য, লকডাউন তো আমাদের খাবার এনে দেবে না। আমাদের খাবার চাই। তারা বলেন, সরকারের সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তা শুধু কথার ফুলঝুড়ি। এভাবে আর কয়েক দিন গেলে আমাদের সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে। মারওয়ান জেলাসিস নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ক্ষুধা আমাদের বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

গভর্নরের অফিসে গিয়েছি, কিন্তু তা বন্ধ। তিনি বলেন, আমাদের কোনো কাজ নেই। লকডাউনে সব অচল হয়ে গেছে। আমরা কি করে বাঁচব। কেউ কেউ বলছেন, সাধারণ শ্রমিকরা  তো রাস্তায় বের হয়ে দাবির কথা বলতে পারছেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত তারা তো লোক-লজ্জায় কিছু বলতেও পারছেন না। অপর একজন বিক্ষোভকারী বলেন, করোনায় ঘরে থাকতে হবে ভালো কথা, কিন্তু পেট চলবে কি করে। এ সময় এক রাজমিস্ত্রি চিত্কার করে বলেন, আমার শিশুর জন্য এক টুকরো রুটি দাও।

প্রকৃতপক্ষে দেশটিতে যে দুর্বল অর্থনীতি তা বেন আলির শাসনামল থেকেই বেশি শুরু হয়। ২০১০-১১ সালে আরব বসন্তের যখন আন্দোলন চলছিল তখন তার ছোঁয়া তিউনিসিয়ায়ও গিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বেন আলি সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু সরকারের পতন ঘটলেও অর্থনীতির চাকা আজো সোজা হয়নি। এমনই বাস্তবতায় লকডাউন তাদের কাছে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রণোদনার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বলছে, এগুলো বড়ো মানুষের কথা, এগুলো সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছায় না।