মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বাইডেন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৪

তালেব রানা

মহামারি করোনা ভাইরাসের ছোবলে বিপর্যস্ত বিশ্ব। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা। গত বছরের শেষদিকে চীনে এই নতুন ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শুরু হয়েছিল। সেই চীনে ভাইরাসের বিস্তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র এই ভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি মানুষের। শনিবার এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। তারপরও বাড়ছে মৃত্যু। করোনার বিস্তারে থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রাও। জনগণ ঘরে বন্দি, সবার একটাই চেষ্টা করোনা মোকাবিলা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা।

করোনায় যখন লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র, তখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হাওয়া। চলতি বছরের ৩ নভেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু করোনার বিস্তারের কারণে এরই মধ্যে নির্বাচনের কিছু প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারি ও ককাস ভোট বাতিল হয়েছে। পিছিয়ে গেছে ডেমোক্র্যাট দলের কনভেনশনও।

করোনা সংকটের কারণে সাম্প্র্রতিক দিনগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণায় সুবিধা করতে পারছিলেন না ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রত্যাশী ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সম্প্রতি তিনি এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। স্যান্ডার্স সরে দাঁড়ানোর কারণে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কারণ ডেমোক্র্যাট দলে এখন তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ৭৮ বছর বয়সি স্যান্ডার্স গতবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে লড়েছিলেন। তবে হিলারি ক্লিনটনের কাছে হেরে সরে দাঁড়ান তিনি। এদিকে আগামী নির্বাচনে আবারও প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী তিনিই হচ্ছেন সেটা নিশ্চিত।

নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজের দৌড়ে এখন ট্রাম্প আর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আগামী আগস্টে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের কনভেনশন হবে। সেখানেই দুই দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বিপর্যয় অব্যাহত থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কী রূপ পাবে তা বলা এখনই কঠিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ফেডারেল আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। এই তারিখ পরিবর্তন করা অবিশ্বাস্য! এজন্য মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিল পাশ হতে হবে এবং সেটিকে আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্টকে সই করতে হবে। এই আইন আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এ কারণে নির্ধারিত দিনে ভোট হওয়া নিয়ে তেমন কোনো সংশয় নেই। তাই নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে দেশটিতে। অনলাইনে নিত্যনতুন কৌশলে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। গণমাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে নানা বিজ্ঞাপন। গত বুধবার প্রকাশ হওয়া নতুন জরিপে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন/অনুমোদন যেকোনো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ। কিন্তু ট্রাম্প বনাম বাইডেন হেড টু হেড জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশব্যাপী ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। কুইনিপিয়াক জরিপের ফলে ৪৯-৪১ পয়েন্টে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে বাইডেন। অন্যদিকে রিয়ালক্লিয়ারপলিটিকস জরিপে বাইডেন ৪৯.৭- ৪৩.৩ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, এবারের নির্বাচনে করোনা ভাইরাসের ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন, আরো কি কি করতে পারতেন তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বলা হচ্ছে, আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন আগে-ভাগে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে মহামারির বিস্তার মোকাবিলায় তার প্রশাসনের কাজে দুর্বলতা আছে। বিশেষ করে এই সংকট মোকাবিলায় আগে থেকে বড়ো প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তের ঘাটতি রয়েছে। সম্প্রতি সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, গত নভেম্বর থেকে চীনে করোনার সংক্রমণ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছে কয়েকটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ভুগতে হচ্ছে!

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম বলছে, আগামী নির্বাচনকে ভোটাররা যদি একজন অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গণভোট হিসেবে দেখে, তাহলে ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নেই। তবে এই নির্বাচন যদি ট্রাম্প আর বাইডেনের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া হয়— সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ঐতিহ্য হলো—একজন প্রেসিডেন্ট দুই বারই ক্ষমতায় থাকেন। যদিও গত ১০০ বছরে একাধিকবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। এখন দেখার বিষয় মার্কিনীরা রেসের মধ্যে ঘোড়া বদল করবেন কি-না। সেটা নির্বাচনের ফলেই দেখা যাবে।