আইসিসি ট্রফি জয়ের ২৩ বছর
জান-ই-আলম
‘আমরা টেস্টে ঐ রকম দল হতে পারি নাই এই ২৩ বছরে। টেস্টে কিন্তু সময় লাগে। নিউজিল্যান্ডের মতো দল প্রথম ম্যাচ জিততে ২৬ বছর লেগে গিয়েছিল।’ —আকরাম খান
‘এটা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই দিনটা সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখান থেকে আমাদের ক্রিকেটের বিপ্লব শুরু বলতে পারেন। — মিনহাজুল আবেদীন নান্নু
প্রসঙ্গটা তুলতেই মোবাইল ফোনের ওপ্রান্ত থেকে দৃঢ়কণ্ঠে আকরাম খানের জবাব, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই মনে আছে। এটা কেমনে ভুলি।’
আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নুরা ভুলেননি। বাংলাদেশের ক্রিকেটও দিনটাকে বিস্মৃত হতে পারবে না কখনোই। আকরাম-নান্নুরা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনালি প্রজন্ম। দেশের ক্রিকেটকে একটা ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তারা। ক্রিকেট দুনিয়া চষে বেড়ানোর, উন্নতির শিখরে উঠার সুযোগ, প্রতিনিয়ত অর্জনের নেশায় ছুঁটে চলার ‘টিকিটটা তারাই এনে দিয়েছিলেন।
আজ থেকে ২৩ বছর আগে আকরাম খানের নেতৃত্বে আইসিসি ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। হল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। পরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিলাত কিলাব মাঠে বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে ১৩ এপ্রিল কেনিয়ার বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয়ে প্রথম ট্রফির স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
আকরামের মতে, তখন সবচেয়ে বড়ো অর্জন ছিল এটি। নান্নুর চোখে, ঐ ট্রফি জয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ক্রিকেট বিপ্লবের শুরু। ২৩ বছর পর দুই জনই মানছেন, দেশের ক্রিকেট নিয়ে তাদের দেখা স্বপ্ন পুরো বাস্তবে ধরা দেয়নি। বিশেষ করে টেস্টে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলেই মানছেন তারা। তবে বাকি দুই ফরম্যাটে বলার মতো অনেক অর্জন রয়েছে টাইগারদের।
আইসিসি ট্রফি জয়ের স্মৃতিচারণে গতকাল আকরাম খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো অর্জন ছিল। স্বাধীনতার পর প্রথম সব বাঙালিকে দেখলাম হাসতে। সবসময় যখনই ভাবি, তখনই ভালো লাগে যে, এত বড়ো অর্জন। তখন ক্রিকেট কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে এক নম্বর স্পোর্টস ছিল না।’ হল্যান্ডের বিরুদ্ধে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আকরামের বীরোচিত ৬৮ রানে বিশ্বকাপে উন্নীত হয়েছিল বাংলাদেশ। ট্রফি জিতে দেশে ফেরার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সংবর্ধনা দাগ কেটেছিল আকরামের মনে। গতকাল তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক লেগেছিল আমরা আসার পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে সংবর্ধনা আমাদেরকে দিয়েছেন, ট্রফি জয়কে আরো রঙিন করে তুলেছিল সেটি। প্রায় ১ লাখ লোক এসে আমাদেরকে সংবর্ধনা দিয়েছে।’
আইসিসি ট্রফি জয়ের দিন স্মরণ করে নান্নু বলেছেন, ‘এটা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই দিনটা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখান থেকে আমাদের ক্রিকেটের বিপ্লব শুরু বলতে পারেন। দেশবাসী যেভাবে এটাকে উদ্যাপন করেছে কখনোই আমরা ভুলতে পারব না।’ দুই সাবেক অধিনায়কই বলেছেন, গত ২৩ বছরে সাদা পোশাকে তাদের প্রত্যাশাকে ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ দল। আকরাম বলেন, ‘আমরা টেস্টে ঐ রকম দল হতে পারি নাই এই ২৩ বছরে। টেস্টে কিন্তু সময় লাগে। নিউজিল্যান্ডের মতো দল প্রথম ম্যাচ জিততে ২৬ বছর লেগে গিয়েছিল। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে ক্রিকেটটা পৃথিবীতে আমাদেরকে একটা জায়গায় পরিচিতি এনে দিয়েছে।’ এই সময়ে মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার পাওয়াকেও প্রাপ্তি বলছেন বিসিবির এই পরিচালক।
টেস্টে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি আসেনি জানিয়ে নান্নু গতকাল বলেন, ‘আসলে আমাদের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। ২৩ বছর বিবেচনা করলে আমাদের টেস্টে আরো উন্নতি করা দরকার ছিল। তখন সুযোগ-সুবিধা কম ছিল। একটা মাঠে ফুটবল-ক্রিকেট হতো। এখন আমাদের সুযোগ-সুবিধা বেশ ভালো। দলও উন্নতি করছে।’
