স্পোর্টস রিপোর্টার
আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর উইকেট নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু করেছিলেন। অনেক সম্ভাবনা নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন মোহাম্মদ শরীফ। রিভার্স সুইং করানোর দক্ষতার কারণে পুরোনো বলে বেশ কার্যকর ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনজুরির ধাক্কায় বাংলাদেশের জার্সিতে লম্বা হয়নি ডানহাতি এই পেসারের ক্যারিয়ার। ১০ টেস্ট, ৯ ওয়ানডেতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধ্যায় থেমে গেলেও শরীফ থামেননি।
বিপুল উদ্দীপনা, পারফরম করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে খেলে গেছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, লিস্ট-এ ক্রিকেটে পারফরম করেছেন ধারাবাহিকভাবে। গত শনিবার রাতে ২০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন শরীফ। সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন তিনি। অবসরে যাওয়ার সময় শরীফের সঙ্গী হয়েছে ৭ উইকেটের আক্ষেপ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩২ ম্যাচে ৩৯৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ম্যাচের সংখ্যা, উইকেট মিলে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। ৪০০ উইকেটের মাইলফলক অর্জনের অপেক্ষায় ছিলেন। করোনা ভাইরাসের কারণে ক্রিকেটে লম্বা বিরতি পড়ায় ক্যারিয়ারে যতিচিহ্ন টেনে দিয়েছেন শরীফ। ৪০০ উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই অবসরে গেলেন লড়াকু এই ক্রিকেটার।
অবসরের ঘোষণা সম্পর্কে শরীফ বলেছেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব ধরনের ক্রিকেট ছাড়ার, যদিও আমি মনে করি আরো দুই বছর ক্রিকেট খেলতে পারব।’
নিজের ক্যারিয়ারের মূল্যায়নে ৩৪ বছর বয়সি এই পেসার বলেছেন, ‘একটাই হতাশা যে আমি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট পেলাম না। এছাড়া দারুণ সময় কেটেছে। যা আমি সারাজীবন উপভোগ করব।’
তরুণদের সুযোগ করে দিতেই বিদায় বললেন শরীফ। তবে বন্ধ হয়ে থাকা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আবার শুরু হলে এই লিগে খেলেই মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিতে চান। আর শেষ পর্যন্ত লিগ না হলে এখানেই বিদায় ঘটছে শরীফের।
অবসর পরবর্তী সময়ে বিসিবির সঙ্গে কাজ করতে চান। নিজের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে চান তরুণদের মধ্যে। শরীফ বলেছেন, ‘আমি বিসিবির সঙ্গে কাজ করতে চাই সামনের দিনগুলোতে। সম্ভবত আমি আমার লম্বা ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা সেখানে কাজে লাগাতে পারব। আশা করি, এখন তরুণ ক্রিকেটাররা আমার জায়গায় সুযোগ পাবে।’
বুলাওয়েতে ২০০১ সালে অভিষেকের পর ১০ টেস্টে ১৪ উইকেট, ৯ ওয়ানডেতে ১০ উইকেট নিয়েছেন শরীফ। তবে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ১১৯ ম্যাচে ১৮৫ উইকেট, ২২ টি-২০ তে ১১ উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে।
