‘গত ছয় দিন আগে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, দুই কেজি গোলআলু পেয়েছিলাম। পাঁচ সদস্যের সংসারে তিন দিন ধরে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি। টাকাও নেই, বাজারও নেই; নেই কোনো সহযোগিতাও। ১০ টাকার চাল বিক্রি হচ্ছে শুনে ধার করে তা নিতে এলাম। ক্ষুধার জ্বালা লকডাউন মানছে না।’
কক্সবাজার পৌরসভার রুমালিয়াছড়ায় সরকারের ১০ টাকার চাল বিতরণ প্রকল্পে চাল নিতে আসা দক্ষিণ রুমালিয়াছড়ার কর্মজীবী আবদুল হালিমের স্ত্রী নুর জাহান এসব কথা বলেন। শুধু তিনি নন, তার মতো আরো অর্ধশতাধিক নুর জাহান ১০ টাকার চাল সংগ্রহ করতে ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে ভিড় করেন। ক্ষুধার যন্ত্রণা পেটে থাকলেও বাইরে কাউকে বলাটা লজ্জার বলেই মনে করেন এসব দুর্ভোগতাড়িত মানুষ।
স্থানীয় আবদু রশীদ জানান, অনেক দিন ধরেই ১০ টাকার চাল বিক্রি হয় এখানে। করোনার সময় শুরুর পরও বিতরণ হয়েছে। কিন্তু রবিবারের মতো সাড়া দেখা যায়নি। লম্বা লাইনে নারী-পুরুষ উভয়েই ভিড় করছেন। করোনার ভয় তাদের মনে দাগ কাটতে পারছে না। তাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে।
কক্সবাজার পুরো লকডাউন ঘোষণার চার দিন অতিবাহিত হয়েছে গতকাল। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছিল, কেউ অভুক্ত থাকবে না। প্রশাসনই বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেবে। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও আত্মসম্মানে অবিচল পরিবারগুলোতে কোনো ত্রাণই পৌঁছায়নি। তাই চরম দুর্ভোগে সময় পার করছে সিংহভাগ পরিবার। অনেকে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের হটলাইনে নক করেও সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সীমাহীন দুর্ভোগে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকেরাও।
হটলাইনে নক করার পরও ত্রাণ না পাওয়া এবং সামগ্রিক ত্রাণ তত্পরতা নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার বলেন, করোনা দুর্যোগে কেউ অভুক্ত থাকবে না, এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা। সেভাবে আমরা কাজ করছি। সবাইকে শতভাগ খুশি করা কষ্টসাধ্য। কয়েক ক্যাটাগরির তালিকা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর সবার কাছে একবার হলেও ত্রাণ যাবে এ নিশ্চয়তা দেওয়া যায়। হটলাইনে এসএমএস এলে তা-ও যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে কক্সবাজার সরকারি মেডিক্যাল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে গতকাল ৩২ জনের করোনা টেস্ট হয়েছে। সবারই নেগেটিভ ফল এসেছে বলে জানিয়েছেন মেডিক্যালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া।
