নবীনগরে পুলিশের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর থানাকান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান গ্রুপ ও কাউছার মোল্লা গ্রুপের মধ্যে গ্রামের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তারই জের ধরে গতকাল রবিবার কাউছার মোল্লা গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। আবু মেম্মার বাড়িসহ প্রায় ৩০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়। হামলাকারীরা জিল্লুর চেয়ারম্যান গ্রুপের মোবারক হোসেনের (৪৫) পা কেটে নিয়ে যায়। এ কাটা পা নিয়ে তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মিছিল করে।

পরে এ কাটা পা নিয়ে মিছিলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পা কাটা মোবারককে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর হাসপাতালসহ আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে লিপ্ত ৩০ জনকে পুলিশ আটক করেছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে মোবারক জানায়, কাউছার মোল্লা গ্রুপের মাইনুদ্দিন মিয়ার ছেলে রুবেল, মালি মিয়ার ছেলে জাবেদ, আওলাদ মিয়ার ছেলে রনি, ফজলু মিয়ার ছেলে মহসিন আমার ওপর হামলা করে আমার পা কেটে নিয়ে যায়। অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকাবস্থায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ বিধায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে।

উল্লেখ্য, ঐ গ্রামে প্রায় তিন যুগের বেশি সময় ধরে দুই প্রভাবশালী আবু মেম্বার ও মোসলেম মেম্বারের মধ্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমান এই দুই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও কাউছার মোল্লা। এলাকার যে কোনো ইস্যুতে ওই দুই গ্রুপ দুই পক্ষে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব দেয়। সামান্য ও ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মেতে উঠে তারা। বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতে সংঘটিত সংঘর্ষে পাঁচটি খুন ও ২৫টি পালটাপালটি মামলা হয়েছে। কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গ্রাম গৌরনগর, হাজীর হাটি, সাতঘর হাটি ও থানাকান্দি এই চারটি গ্রামে গত ৩৫ বছর যাবত্ এ ধরনের রক্তক্ষয়ী হানাহানি চলে আসছে। ঐ দুই গ্রুপই এ চারটি গ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন বলেন, বিকাল পর্যন্ত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে। পরবর্তী যে কোনো ঘটনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।