উস্কানিতে পা না দিতে আওয়ামী লীগের আহ্বান

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪

আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিয়ে সজাগ ও সংযত থাকার জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার দলের হাইকমান্ডের এই নির্দেশনার কথা তৃণমূলে পাঠানো হয়েছে।

তৃণমূলে পাঠানো কেন্দ্রের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘বিএনপি-জামায়াত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কোনো বিশ্বাস নেই। তারা বুঝতে পেরেছে নির্বাচনে বিজয়ী হবে না। তাই হেরে যাওয়ার প্রাক্কালে যে কোনো রকমের ছোবল মারতে পারে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নানা ধরনের উস্কানি দিতে পারে। সেদিকে সবাই সজাগ থাকবেন। কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে এলে তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিবেন। গণজোয়ার নৌকার পক্ষে, নিরপেক্ষ ভোটে বিজয় আমাদের হবেই ইনশাল্লাহ।’ দলীয় একটি সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সিটি কলেজ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার ভোট প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ভোটার। 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের দুই জন নেতা জানান, নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট। তারা নির্বাচনের দিন গেরিলা কায়দায় কেন্দ্র দখল ও নাশকতার নীল নকশা করেছে। তারা মরণ কামড় দিয়ে বসতে পারে। নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে তারা সারাদেশে সন্ত্রাস করছে। ইতোমধ্যে বিএনপি-জামায়াত মিলে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পাঁচজন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে এবং ৪৪১ জন আহত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ১৭০টি অফিস-বাড়িঘর তারা ভাঙচুর করেছে, ৫৪টা স্থানে বোমা হামলা করেছে। পেট্রোল বোমা হামলাও চালানো হয়েছে। ৬৮টি স্থাপনা ও যানবাহনে তারা হামলা করেছে। পুলিশের ওপরও তারা হামলা করেছে। তাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে যত অপচেষ্টাই করা হোক না কেন, নির্বাচন স্বস্তিদায়ক হবে।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যাতে নাশকতা চালাতে না পারে সেজন্য ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি আগেই গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গঠিত এসব কমিটি আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরু থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছে। সরকারের উন্নয়ন-সম্বলিত লিফলেট বিতরণও করে। এখন ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটিগুলো নাশকতা প্রতিরোধ ও ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে মাঠে আছে। কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটিগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সমমনা জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, এলাকার মাতব্বর, পল্লী চিকিত্সক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

অপরদিকে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অধিকাংশ আসনে মান-অভিমান কোন্দল-বিভেদ ভুলে এখন ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যেসব নেতার মুখ দেখাদেখি ছিল না দীর্ঘদিন তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত ১৮ দিন প্রচারণাযুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন। দলের নেতাকর্মীদের এমন ঐক্যবদ্ধ হওয়া দেখে দলীয় হাইকমান্ড থেকে শুরু করে সবার একটা আত্মবিশ্বাস হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে বড় বিজয় পাবে আওয়ামী লীগ। প্রচারণা উত্সব শুরু হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবার দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘একটি সিট ও একটি ভোট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর স্বার্থে দল-জোট মনোনীতদের পক্ষে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না।’

দলের হাইকমান্ডের এমন নির্দেশনা পেয়ে দীর্ঘদিনের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন নেতাকর্মীরা। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ ছিল। সৃষ্টি হয়েছিল দুটি বলয়। একটি বর্তমান এমপি এনামুল হকের, অন্যটি বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদের। এবার মনোনয়ন পেয়েছেন আসনটির টানা দুবারের এমপি এনামুল হক। শেষ পর্যন্ত বিভেদ ভুলে এক হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু, আবুল কালাম আজাদসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সব নেতা। তারা এখন নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ, প্রচারণাও চালিয়েছেন এক সাথে। অবশেষে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হলো খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, হামলা, মামলায় লিপ্ত ছিল স্থানীয় এ আওয়ামী লীগ। অবশেষে এর অবসান ঘটিয়ে ‘নৌকার জন্য’ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি গ্রুপ।

প্রার্থীরা এখন কেন্দ্রভিত্তিক ঘরোয়া কাজে ব্যস্ত

নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে শুক্রবার সকাল ৮টায়। এরপর থেকে বাসাবাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। বাসায় বসেই কেন্দ্রভিত্তিক কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। টেলিফোনেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ভোটার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে। ঢাকা-৮ আসনে মহাজোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান মেননও গতকাল দিনভর ব্যস্ত সময় কাটান। সকাল থেকে কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্ট সেট করা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ কেন্দ্রভিত্তিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বাসায় এলে তাদের সঙ্গে ভোট নিয়ে পরামর্শ করেন। ঢাকা-৯ আসনে নৌকার প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী সময় কাটিয়েছেন শহীদবাগের নির্বাচনী কার্যালয়ে। তিনি সকালের দিকে বাসায় ছিলেন। তার বাসায় নেতাকর্মীদের এখনও ভিড় রয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ দলের ওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে সময় কাটান। ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সময় কাটিয়েছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তিনি দুপুরে ঝিগাতলা ট্যানারি মোড়ে একটি জানাজায় অংশ নেন। তিনি নিজ কার্যালয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কাজগুলো শেষ করতে নেতাকর্মীদের তদারকি করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ‘ভোট বিপ্লব’ হবে। যারা সন্ত্রাস-দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে যেতে চায় জনগণ তাদের ভোট দিবে না। বিপুল ভোটে বেশির ভাগ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদী।