ভোটের আগের দিন ভোলাকে রণক্ষেত্র বানানোর ষড়যন্ত্র ফাঁস

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন (অর্থাত্ আজ শনিবার) ভোলাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন ভোলা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ! এ নীল নকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবুল বিশ্বাসকে ভোলার সাধারণ জনগণকে কোপানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী বাবুলকে গতকাল শুক্রবার ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়ন থেকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বাবুলকে থানায় নিয়ে তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ এক ফোনালাপ। ২৮ ডিসেম্বর সকালে মেজর (অব.) হাফিজের সঙ্গে ফোনালাপে বাবুল বিশ্বাস বলে, ‘স্যার আপনি অনুমতি দিন, সিদ্দিককে নিয়ে বদরপুরে (লালমোহন উপজেলার ইউনিয়ন) একত্রিত হয়ে কিছু মানুষকে আমরা কুপিয়ে দেই। মেরে ফেলবো না।’ এসময় হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন—এখন না,  এখন না, সেটা নির্বাচনের আগের দিন। ফোনালাপটি শুনে রীতি মতো হতভম্ব হয়ে পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভাবতে অবাক লাগে, যে এলাকার মানুষ তাকে ভালোবেসে চারবার ভোটে জিতিয়েছিল সেই ভোলার মানুষকেই তিনি কোপাতে চাচ্ছেন।’

জানা গেছে, হাফিজ উদ্দিনের নাশকতা চালানোর ব্যাপক পরিকল্পনা ছিল। ভোটকেন্দ্রে শিবিরের ক্যাডারদের এজেন্ট নিয়োগ করে সহিংসতা চালাতে চেয়েছিলেন তিনি। সব তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আসায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, বাবুল বিশ্বাস ২০০১ থেকে ২০০৬ এর বিএনপি শাসনামলে সমগ্র ভোলায় শত শত ঘর বাড়ি পুড়িয়ে সংখ্যালঘুদের এলাকা ছাড়া করেছিল। টাকার বিনিময়ে খুন করা তার পেশা। তবে মেজর হাফিজের ডান হাত হওয়ায় তার বিপক্ষে কেউ কোনো কথা বলে না।