করোনা আক্রান্ত রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪১

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়ায় যশোরের কেশবপুরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে করোনা ইউনিটে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সোমবার সকালে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিক্যাল টিম আক্রান্ত ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে খুলনায় প্রেরণ করেছেন।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারীর (৩৩) করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ৮ এপ্রিল ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে প্রেরণ করা হয়। এরপর তিনি সেখান থেকে কেশবপুর উপজেলার একটি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করেন।

এরপর রবিবার (১২এপ্রিল) খুলনা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই স্বাস্থ্য সহকারীর নমুনায় করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় বলে জানায়। এ খবরে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. দিলীপ রায় ওই গ্রামে উপস্থিত হয়ে করোনায় আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এসময় কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী, পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় ওই বাড়িটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন করা হয়। এদিকে কেশবপুর শহরের অনন্ত সড়কস্ত একটি বাসার ভাড়াটিয়া নিকটাত্মীয় হওয়ায় এবং আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীর যাতায়াত সন্দেহে ওই বাড়িটিও লকডাউন করা হয়েছে।  

করোনা আক্রান্ত রোগীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা কেশবপুরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত রোগীর শ্বশুর বাড়িতে একটি মাত্র বাথরুম রয়েছে। ওই বাথরুমই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিসহ বাড়ির সকলেই ব্যবহার করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, একই বাথরুম ব্যবহার করাই ওই বাড়ির সকলেই করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বাড়িতে একটি মাত্র বাথরুম থাকাই কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাথরুম ব্যবহারের জন্য একটি কমোড চেয়ার দিয়েছেন।

তবে এলাকাবাসী তাকে দ্রুত ওই গ্রাম থেকে নিয়ে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার দাবি জানান।

পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, তার ইউনিয়নের একটি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে রেখে মনিরামপুরের করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা করানোর খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ায় দাবি করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিক্যাল টিম ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী ও শিশু সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করে যশোর সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হয়েছে।

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, ওই স্বাস্থ্য সহকারীর চিকিৎসাসহ নমুনা সংগ্রহকারী তিনিসহ ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

আরো পড়ুন: দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুদ আছে: বিসিআইসি

যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, করোনায় আক্রান্ত মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারীকে তার শ্বশুর বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. দিলীপ রায় বলেন, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার অবস্থার অবনতি হলে যশোর নিয়ে আসা হবে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থান করা তার শ্বশুরবাড়ি ও কেশবপুর শহরে তার নিকটাত্মীয়ের এক ভাড়া বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।  

ইত্তেফাক/এএএম