চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও এক জন। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বড়তাকিয়া বাজারের বড় তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সুলতান আহমদ, তার তিন মাসের শিশু কন্যা মুনতাহা ও রিকশাচালক নিজাম উদ্দিন। সুলতান আহমদের স্ত্রী রোজিনা আক্তার মারাত্মক আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া চক্ষু হাসপাতাল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাক চাপা দেয়। নিহত সুলতান আহমদ খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পূর্ব পোলমোগরা বড়তাকিয়া রেলস্টেশন এলাকার ছালে আহম্মদ ভাণ্ডারি বাড়ির ছালে আহম্মদের পুত্র। রিকশাচালক নিজাম খৈয়াছড়া ইউনিয়ের নিচিন্তা গ্রামের আব্দুল হক মেস্ত্রি বাড়ির গনি আহম্মদের পুত্র।
বরিশালে নিহত একজন
জেলার বাকেরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমান নামে এক যুবক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে বাকেরগঞ্জ থেকে মির্জাগঞ্জের উদ্দেশে আসা থ্রি-হুইলারের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সংঘর্ষ হলে থ্রি-হুইলারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। শেবাচিমের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মিজানুর রহমান নামের একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। অন্যদের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নিহত মিজানুর রহমানের লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, হতাহতরা সকলেই থ্রি-হুইলারের যাত্রী। তবে থ্রি-হুইলারের সঙ্গে কোনো গাড়ির সংঘর্ষ হয়েছে তা জানা যায়নি।
রাজারহাটে নিহত ১
শুক্রবার দুপুরে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মাইক্রেবাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক অটোযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে ২ জন। তাদের রাজারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, রাজারহাট হতে উলিপুর যাওয়ার পথে একটি মাইক্রো নাজিমখান বাজারের নাজিমখান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মোড়ে পৌঁছিলে রাজারহাটগামী একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে দুমড়ে-মুছড়ে যায়। অটোরিকশায় থাকা যাত্রী পরেশ চন্দ্র দাস (৬০), নরেশ চন্দ্র (৪৮) ও আবেদ আলী (৫০) গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে রাজারহাট হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার পরেশ চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরেশ চন্দ্র দাসসহ আহতরা মাছ ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। মৃত পরেশ চন্দ্র দাস উলিপুর উপজেলার নারিকেলবাড়ী গ্রামের রজনীকান্ত দাসের পুত্র। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইক্রোটিসহ অটোরিকশাটি আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
