খরার কবলে চা-বাগান ও বোরো খেত

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:১২

বৃষ্টি নেই সিলেটে

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির অভাবে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে তাতিয়ে আছে। বিশেষ করে ফসলের মাঠ অনেক স্থানে ফেটে চৌচির। সিলেটের চা-বাগানগুলোও খরায় পড়েছে। মালিক ও বাগান সংশ্লিষ্টরা বেশ উদ্বিগ্ন। কোনো কোনো বাগানে ডিপ-টিউবওয়েল দিয়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ বাগানে সেই সুবিধা নেই। অন্যান্য সময়ে অনেক সময় বাগানের পাশের নালা বা খালে পানি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এবার সেই খাল বা পানির উত্স সম্পূর্ণ শুকনা। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাগানে লাল পিঁপড়ার আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, এবার দেশে ১০ কোটি কেজি চা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ চৌধূরী বুধবার বিকালে ইত্তেফাককে বলেন, এবার সিলেট অঞ্চল দীর্ঘ খরায় পড়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সিলেটে বৃষ্টি নেই বললেই চলে। ফলে বোরো ফসলের মাঠ, চা-বাগান শুষ্কতায় পড়েছে। তিনি বলেন, এবার আমের ভালো ফলন ছিল। কিন্তু কড়া রোদে ঝরে যাচ্ছে। তবে তিনি জানান, বুধবার শেষ রাতের দিকে বৃষ্টি নামতে পারে। সঙ্গে বজ পাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার তীব্র রোদ থাকলেও বাতাসের আদ্রতা খুবই কম। বুধবার সিলেটে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থাকলেও আদ্রতা ছিল মাত্র ১৩ পার্সেন্ট। যেখানে স্বাভাবিকভাবে ৬০-৭০ পার্সেন্ট থাকার কথা। তিনি বলেন, এর কারণ পলিউশন কম।

এই আবহাওয়াবিদ জানান, আসামের চেরাপুঞ্জির পাশে সিলেটে মার্চ-এপ্রিলে প্রচুর বৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু গতমাসে ২২ মিলিমিটার ও এপ্রিলে এখনো বৃষ্টির দেখা নেই। অথচ এপ্রিলে ৪০০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টি হয়।

বোরো প্রধান সিলেট অঞ্চলের কৃষকরা জানান, যেসব খেতে সামান্য ধান বেরিয়েছে তা পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ এই পরিস্থিতিকে এখনো অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছে। কৃষি বিভাগের সূত্র জানায়, মাঠে ফসল ১১ ভাগ হার্ডডাপ অবস্থায় আর সফটডাপ অবস্থায় ১৮ ভাগ, ফুল অবস্থায় ৩৮ ভাগ। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বৈশাখের প্রথমে কিছু জমির ধান কাটা পড়বে।

সদর উপজেলার সামাউরাকান্দি গ্রামের কৃষক আব্দুল কাইয়ুমদের সামাউরাকান্দি হাওরে নিজেদের ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন। ধান গাছে এরই মধ্যে থোড় এসেছে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ার কারণে জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ধান গাছের গোড়াতে পানি নেই তাই ধান পুষ্ট হচ্ছে না। ধানে দেখা দিয়েছে চিটা। গাছ ভালো হলেও এবার বৃষ্টির পানির অভাবে ধানে চিটা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করে কৃষক আব্দুল কাইয়ুম জানান, তার পাশের জমিগুলোরও একই অবস্থা।

আব্দুল কাইয়ুমের মতো বাওরকান্দি, বাদাঘাট, নীলগ্রাম, বাইশটিলা এলাকার কৃষকরা আশঙ্কা করছেন ফসলহানির। খরার জন্য ধানের শীষের শাখা বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ধান চিটা হয়ে যায়। তাই কৃষকরা এখন অপেক্ষা করছেন বৃষ্টির। একই কথা জানালেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের শাহীন চৌধূরী, জামালগঞ্জ উপজেলার ইকবাল আহমদসহ বিভিন্নস্থানের গৃহস্থ ও কৃষকরা। তারা জানান, এবার খরার কারণে বোরো ঘরে উঠবে কি-না সন্দেহ।

এদিকে কৃষকরা জানান, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারি অফিস ছুটি থাকায় মাঠে যাচ্ছেন না কৃষি কর্মকর্তারা। ধানে চিটার খবর জানেনও না তারা।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এবার সিলেটের চার জেলায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো জমি আবাদ হয়েছে। এ থেকে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ২০৬ মেট্রিকটন চাল।