একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রামে। ইতোমধ্যে নগরীর ছয়টি ও জেলার ১০টিসহ মোট ১৬টি নির্বাচনী এলাকায় ব্যালট পেপারসহ ভোটের সরঞ্জামাদি পৌঁছানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে প্রথমবারের মত ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটভুক্ত বিভিন্ন দল, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন দল, সিপিবি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র মিলে ১১৫ জন প্রার্থী চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা নির্বাচন অফিসের তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ লাখ ১২ হাজার ৭৫ এবং নারী ভোটার ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে নগরীতে ৫৯৭টি ভোট কেন্দ্রে ১৯ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার রয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ আসনে ১৪৪টি কেন্দ্রের ৯২০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ইভিএম মেশিন থাকবে। ইভিএমে ভোট গ্রহণ তদারকি করতে সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের চারটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও একটি উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি দল কাজ করবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথ বাহিনীর টহলের পাশাপাশি পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামকে নগরী ও জেলায় ভাগ করে ৭৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর ছয়টি আসনে এবং ৪৭ জন জেলার ১০টি আসনে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রচার, প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীরা। প্রচারণা শুরুর পর ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হ্যান্ডবিল বিতরণ, পথসভা, উঠান বৈঠক, মাইকিং ও মিছিল সমাবেশে মুখর ছিল চট্টগ্রাম। বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ও সড়কে টাঙানো হয়েছে পোস্টার, ব্যানার। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলেছে প্রচার।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর মানুষ যাতে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
