করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে দিশেহারা সবাই। সারাদেশে চলছে ‘লকডাউন’। এরইমধ্যে আসছে পবিত্র রমজান। প্রতি বছর রমজানের আগে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক ধরনের উত্কণ্ঠা কাজ করে ভোক্তাদের মধ্যে। এবার ‘করোনা সংকট’ সেই উত্কণ্ঠাকে যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর রমজানে বিভিন্ন নিত্যপ্রণ্যের যে চাহিদা থাকে, তারচেয়ে বেশি পরিমাণে পণ্য ইতিমধ্যে আমদানি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেশি। এছাড়া আরো পণ্য আসছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয়ের প্রয়োজন নেই।
রমজানে যে পণ্যগুলোর সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে তারমধ্যে রয়েছে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, চিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে বছরে ছোলার চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টন। এই হিসেবে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার টন ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে। এছাড়া আমদানির জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন ছোলা পাইপলাইনে রয়েছে বলে আমদানিকারকরা জানিয়েছে। চলতি অর্থবছরের আট মাসে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৪২ টন। যা গত বছরের চেয়ে ৪০ হাজার ৬৪ টন বেশি। এছাড়া চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাদা মটর আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টন।
চলতি অর্থবছরের আট মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাম অয়েল আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৫২ টন। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় লাখ টন বেশি। এছাড়া সয়াবিন (ক্রুড অয়েল) আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টন।
এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে ভেষজপণ্য হিসেবে মসলাপণ্য রসুনের চাহিদা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রসুনের আমদানিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। গত অর্থবছরের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আট মাসে রসুন আমদানি হয় ৪৫ হাজার ৫০৯ টন। চলতি অর্থবছরের আট মাসে আমদানি হয়েছে ৬৪ হাজার ৮১ টন।
চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের হিসাবে, দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৬ লাখ টন। সে হিসাবে প্রতি মাসে চাহিদা এক থেকে সোয়া লাখ টন। তবে রমজানে চাহিদা দুই থেকে আড়াই লাখ টন হয়। চিনি রিফাইনারি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, বাজারে চিনির ঘাটতি নেই।
দেশে বছরে আদার চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন। এরমধ্যে দেশে উত্পাদিত হয় ১ লাখ ৯২ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদা আমদানি হয়েছে মোট ৬৯ হাজার ৪৮১ টন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ছুটি থাকায় বিভিন্ন জায়গায় পণ্য খালাসে বাধা দেওয়া হচ্ছে, পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। সেইসঙ্গে সময় কমিয়ে আনায় চাহিদামতো ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া পর্যাপ্ত ডলারের অভাবে কোনো কোনো ব্যাংক এলসি খুলতে অনীহা প্রকাশ করেছে। রয়েছে শ্রমিকসংকট। তারা জানান, সারাদেশে পণ্য সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে হবে। না হলে যে কোনো সময় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ছুটি থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মাঠ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে।
বাজারব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে যে কোনো প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আবদুর রহিম খান (মোবাইল- ০১৭১১৩৬৮৪২৬), সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুর রহমান (মোবাইল- ০১৭১৬১৫৪০২০) এবং সহকারী বাণিজ্য পরামর্শক মো. জিয়াউর রহমানের (মোবাইল- ০১৭১২১৬৮৯১৭) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
