পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে পুলিশ ও ত্রাণ প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া, পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জে দুই/তিন জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকতেখারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হানিফ উদ্দিন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সোমবার তার ইউনিয়নের ২৪৯ জন ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থদের মধ্যে মাসিক কিস্তির চাল বিতরণের দিন ধার্য করা হয়। সকাল ৯টার মধ্যে ভিজিডি কার্ডধারীরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে কুয়াবাসী বাজারে প্রচার হয় ত্রাণ বিতরণ করা হবে। মাইকেও বিষয়টি কে বা কারা প্রচার করে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন পরিষদে ছিলেন। মাইকিং শুনে ত্রাণ প্রার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। সবাই চাল পাবেন মনে করে কয়েকশ ত্রাণ প্রার্থী সেখানে সমবেত হন। তাদের দেখে পরিষদের গুদামের গেট তালাবদ্ধ করা হয়। খবর পেয়ে শরত্গঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম রসুলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ত্রাণ প্রার্থীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ত্রাণ প্রার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে পরিষদের ভেতর গিয়ে চাল লুট করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বিক্ষোভকারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম রসুলের মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে চাটমোহরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকতেখারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারী ত্রাণ প্রার্থীদের বিষয়টি বুঝিয়ে নিবৃত করেন। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, তার প্রতিপক্ষরাই এই ঘটনা ঘটিয়ে সরকারের সুনামকে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালায়। ঘটনার পর ভিজিডির কিছু কার্ডেও চাল বিতরণ করে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
