‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না তাই তো জেগে রই...’ কবির এই ভাবনা এখন ভুল প্রমাণ করছেন বিজ্ঞানীরা। অর্থাত্ কিছু কিছু ফুলের গন্ধ ঘুম পাড়াতে সাহায্য করে বলে তাঁরা বলছেন। জার্মানির ড্যুসেলডর্ফ শহরের হাইনরিসহাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওলগা জেরগেভা ও অধ্যাপক হেলমুটহাস এবং আরইউবি-এর গবেষকরা যৌথভাবে গবেষণা করে দেখেছেন, ঘুমের ওষুধের যে উপাদানটি মানুষকে প্রশান্তি এনে দেয় তা কিছু প্রজাতির ফুলের মধ্যেও রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে জুঁই কিংবা বেলি জাতীয় ফুল। তাঁরা বলেছেন, ঘুমের যে কোনো ওষুধ যেভাবে কাজ করে—জুঁই কিংবা বেলি ফুলের সুগন্ধও একইভাবে স্নায়ুতে এনে দেয় প্রশান্তি, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে।
‘দ্য জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল কেমিস্ট্রি’-র এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিজ্ঞানীরা প্রায় এক শ ধরনের সৌরভ নিয়ে মানুষ ও ইঁদুরের ওপর ব্যাপকহারে এ গবেষণা চালান। এর মধ্যে এমন দুটি সুগন্ধ তাঁরা খুঁজে পান যেগুলোতে রয়েছে বাজারে প্রচলিত ঘুমের ওষুধের মতোই শক্তিশালী উপাদান। তাঁদের মতে, শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুগন্ধ ফুসফুস থেকে রক্তে যায় এবং সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। আর মস্তিষ্কে প্রবেশের পর এই সুগন্ধ প্রশান্তি এনে চোখে সহজেই ঘুম নিয়ে আসে। বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, ঘুমের যে কোনো ওষুধের চেয়ে প্রাকৃতিক এই উপাদান অর্থাত্ ফুলই বেশি কার্যকর। জরিপে দেখা গেছে, পশ্চিমা বিশ্বের শতকরা ২০ ভাগ মানুষ প্রতিদিন না হলেও মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। ঘুমের ওষুধ মানুষকে ধীরে ধীরে আসক্ত করে ফেলে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায় বিষণ্ন্নতা, চোখে অন্ধকার দেখা, উত্কণ্ঠা, মাংসপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ঘুমের ওষুধে বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থাকলেও প্রকৃতি থেকে পাওয়া জুঁই বা বেলি ফুলের গন্ধে যেভাবে ঘুম আসে তাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই তাঁদের দাবি—ঘুমের ওষুধের কথা ভুলে যান। ছোট্ট কয়েকটা তাজা জুঁই কিংবা বেলি ফুল নাকের সামনে ধরুন এবং ঘ্রাণ নিন। দেখবেন ঘুমের ওষুধের মতোই এটি কাজ করছে। তাই ওষুধ ছাড়া যাদের ঘুম আসে না তাদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি দারুণ খবর বৈকি!
